• আজ ৯ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মির্জা ফখরুলকে নিয়ে ফাহাম আব্দুস সালামের আবেগঘন স্ট্যাটাস

| নিউজ রুম এডিটর ২:১০ অপরাহ্ণ | ২৪/০৮/২০২৬ অন্যান্য

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নির্বাচিত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন প্রজ্ঞাপন জারি করার পর তাকে নিয়ে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী লেখক ও গবেষক ড. ফাহাম আব্দুস সালাম। পোস্টে তিনি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানান এবং রাজনৈতিক জীবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমন নিবেদিতপ্রাণ সহযোদ্ধা পাবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ওই পোস্টে ফাহাম দীর্ঘদিনের সততা, দায়িত্বশীলতা এবং দেশ ও দলের প্রতি তার নিঃস্বার্থ অবদানের কথা তুলে ধরেন।

পোস্টে ফাহাম লেখেন, দীর্ঘ ২২ বছর ধরে খুব কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতায় মির্জা ফখরুলকে একটি যৌথ পরিবারের দায়িত্বশীল ‘বড় ছেলে’র সঙ্গে তুলনা করা যায়। নিজের সুখ-স্বার্থ ত্যাগ করে অনুজদের বিলিয়ে দেওয়ার মধ্যেই তিনি আনন্দ খুঁজে পান। এমনকি ব্যক্তিগত জীবনে অলস বসে থাকা তার স্বভাববিরুদ্ধ, সুযোগ পেলেই যে কোনো কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে ভালোবাসেন। তার এই কর্মস্পৃহা এবং ভদ্র আচরণই তার সাফল্যের চাবিকাঠি। তিনি এমন একজন বড় ভাই, যিনি ৭ ভাইবোনের জন্য ৬টা চকলেট পেলে নিজের জন্য একটাও না রেখে সবাইকে দিয়ে খুশি থাকেন।

তৃণমূল ও দেশবাসীর কাছে তার নিবেদনের কথা স্মরণ করে লেখায় উল্লেখ করা হয়, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি তার আনুগত্য ছিল অতুলনীয়। বেগম জিয়ার মুক্তি ও দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনকে তিনি নিজের জীবনের মূল দায়িত্ব হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। ৫ আগস্টের পর সিঙ্গাপুরে এক একান্ত কথোপকথনে তিনি নিজের সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে বলেছিলেন, তার জীবনের কাজ হয়ে গেছে এবং ম্যাডামকে বের করে আনতে পেরেছেন। ফাহাম বলেন, বহুবার তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন ম্যাডামকে বের করতে না পারা তার নিজের ব্যর্থতা এবং এই ব্যর্থতাকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে নিতেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক নেতার মির্জা আলমগীরের মতো ‘সাহাবী’ বা অনুগত সহযোদ্ধা পাওয়া কঠিন, যিনি নিজের ভালো-মন্দ দুই সময়েই নেতাকে সবার আগে মনে রাখেন এবং নেতার জন্য সবকিছু করতে রাজি থাকেন। বিএনপির তরুণ নেতাকর্মীদের মধ্যে তাকে কেবল দলের নয়, বরং ‘বাংলাদেশের মহাসচিব’ হিসেবে দেখার প্রবণতা রয়েছে। কারণ, তিনি সবসময় দলের স্বার্থের আগে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেন। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।

ফাহাম তার স্ট্যাটাসে বলেন, মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়াটা তার জন্য একই সঙ্গে আনন্দের ও হতাশার। আনন্দের এই কারণে যে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে এমন একজন মানুষকে বেছে নেওয়া হয়েছে যাকে জাতি অভিভাবক হিসেবে দেখতে চায়। আর হতাশার কারণ হলো, বিএনপিতে এমন একজন মানুষের খুব প্রয়োজন যিনি নিজের আগে দলের ও দেশের স্বার্থ দেখেন এবং তার বিকল্প খুঁজে পাওয়া কঠিন। বঙ্গভবনের ঘেরাটোপে তার দম বন্ধ হয়ে আসতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনীতিতে সততা ও ভালো মানুষের স্থান আছে কি না, সে বিষয়ে ফাহাম বলেন, যারা মনে করেন রাজনীতিতে সৎ ও ভালো মানুষের জায়গা নেই, তারা সম্পূর্ণ ভুল। মির্জা ফখরুলের জীবন ও সংগ্রাম তারই এক বড় প্রমাণ।