• আজ ১৩ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করায় ফাহাম আব্দুস সালামের আবেগঘন স্ট্যাটাস

| নিউজ রুম এডিটর ৯:২৫ পূর্বাহ্ণ | ২৮/০৮/২০২৬ অন্যান্য

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নির্বাচিত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রজ্ঞাপন জারি করার পর তাকে নিয়ে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী লেখক ও গবেষক ড. ফাহাম আব্দুস সালাম। তিনি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানান এবং রাজনৈতিক জীবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমন একজন নিবেদিতপ্রাণ সহযোদ্ধা পাবেন কি না, তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ওই পোস্টে ফাহাম আব্দুস সালাম মির্জা ফখরুলের দীর্ঘদিনের সততা, দায়িত্বশীলতা ও ত্যাগের নানা দিক তুলে ধরেন।

পোস্টে ফাহাম লেখেন, দীর্ঘ ২২ বছর ধরে খুব কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতায় মির্জা ফখরুলকে একটি যৌথ পরিবারের দায়িত্বশীল ‘বড় ছেলে’র সঙ্গে তুলনা করা যায়। নিজের সুখ-স্বার্থ ত্যাগ করে অনুজদের বিলিয়ে দেওয়ার মধ্যেই তিনি আনন্দ খুঁজে পান। ব্যক্তিগত জীবনে অলস বসে থাকা তার স্বভাববিরুদ্ধ, সুযোগ পেলেই যে কোনো কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে ভালোবাসেন। তার কর্মস্পৃহা ও ভদ্র আচরণই তার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

তৃণমূল ও দেশবাসীর কাছে তার নিবেদিতপ্রাণ ভূমিকার কথা স্মরণ করে ফাহাম উল্লেখ করেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি তার আনুগত্য ছিল অতুলনীয়। বেগম জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনকে তিনি জীবনের মূল দায়িত্ব হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। ৫ আগস্টের পর সিঙ্গাপুরে এক একান্ত কথোপকথনে তিনি নিজের সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে বলেছিলেন যে, তার জীবনের কাজ শেষ, ম্যাডামকে বের করে এনেছেন এবং নির্বাচন হলে দেশ গণতন্ত্রে ফিরবে। ফাহাম মন্তব্য করেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে মির্জা ফখরুলের মতো এমন একজন অনুগত ও বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা পাওয়া যেকোনো নেতার জন্যই সৌভাগ্যের বিষয়।

মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়া নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ফাহাম লেখেন, এই বিষয়টি তার জন্য একই সঙ্গে আনন্দের ও হতাশার। আনন্দের কারণ হলো, রাষ্ট্রপতি পদে এমন একজন মানুষ প্রয়োজন যাকে জাতি অভিভাবক হিসেবে দেখতে চায় এবং সঠিক মানুষকেই নির্বাচিত করা হয়েছে। আর হতাশার কারণ হলো, বিএনপিতে এমন একজন মানুষের বড় প্রয়োজন, যিনি নিজের আগে দলের ও দেশের স্বার্থ দেখেন এবং বঙ্গভবনের ঘেরাটোপে তার মতো কর্মঠ মানুষের দম বন্ধ হয়ে আসতে পারে। তাছাড়া, এমন একজন মানুষের বিকল্প বা রিপ্লেসমেন্ট খুঁজে পাওয়াও অত্যন্ত কঠিন।

রাজনীতিতে সততা ও ভালো মানুষের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, মির্জা ফখরুল কোনো মারদাঙ্গা রাজনীতি বা অর্থবিত্তের প্রদর্শনী করেন না এবং দলেও তার কোনো আলাদা গ্রুপিং নেই। তা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের কাছেও তার প্রতি গভীর সম্মান ও আস্থা রয়েছে। রাজনীতিতে সততা ও ভালো মানুষের স্থান যে রয়েছে, মির্জা ফখরুলের জীবন ও সংগ্রাম তারই এক বড় প্রমাণ।