• আজ ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘আর্জেন্টিনা দখলদার জলদস্যুদের বিরুদ্ধে খেলতে নামবে’

| নিউজ রুম এডিটর ৭:৩৪ অপরাহ্ণ | ১৫/০৭/২০২৬ ফুটবল

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড মহারণের আগে আবারও সামনে এসেছে ফকল্যান্ডস (মালভিনাস) ইস্যু। ম্যাচকে ঘিরে দুই দেশের পুরোনো রাজনৈতিক বিরোধ নতুন করে আলোচনায় এনে ইংল্যান্ডকে ‘দখলদার’ ও ‘জলদস্যু’ আখ্যা দিয়েছেন আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিলারুয়েল।মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভিলারুয়েল লেখেন, ‘আগামীকাল আমরা সেই দখলদার জলদস্যুদের বিপক্ষে খেলতে নামব।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটি কোনো সাধারণ ম্যাচ নয়। আমি রাজনৈতিক শিষ্টাচার দেখিয়ে চুপ করে থাকতে পারি না। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ সবসময়ই বিশেষ। এটি আমাদের মালভিনাস, এটি আমাদের দিয়েগো ম্যারাডোনা, এটি মেসির শেষ বিশ্বকাপ এবং এটি বহিরাগত দখলদারদের বিরুদ্ধে লড়াই।’

ভাইস প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের মাধ্যমে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ডস যুদ্ধকে ঘিরে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের বিরোধ আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে। আর্জেন্টিনায় ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জ ‘লাস মালভিনাস’ নামে পরিচিত। যদিও ২০১৩ সালের গণভোটে দ্বীপটির বাসিন্দারা যুক্তরাজ্যের ওভারসিজ টেরিটরি হিসেবেই থাকার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। রাজনৈতিক উত্তেজনার এই আবহের মধ্যেই আটলান্টায় অনুষ্ঠিতব্য সেমিফাইনালকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে স্থানীয় প্রশাসন। গ্যালারিতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

তবে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি শুরু থেকেই খেলাধুলা ও রাজনীতিকে আলাদা রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ। বহু বছর আগে ঘটে যাওয়া সেই দুঃখজনক ঘটনাকে যথাযথ সম্মান জানিয়েই বলছি, আমি খেলাধুলা ও রাজনীতিকে একসঙ্গে মেলাতে পারি না। সেটি আমাদের ইতিহাসের একটি বেদনাদায়ক অধ্যায়। কিন্তু আজকের ফুটবল ম্যাচের সঙ্গে তার সম্পর্ক টানা ঠিক হবে না। যুদ্ধকে আমরা সবসময়ই ঘৃণা করি।’

ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেলও একই সুরে কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, অতীতের ইতিহাসকে সম্মান জানানো জরুরি হলেও সেটিকে বর্তমানের ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।

টুখেল বলেন, ‘মানুষ অবশ্যই ইতিহাস মনে রাখে এবং অতীতে কী ঘটেছিল তা ভোলে না। কিন্তু এটি একটি ফুটবল ম্যাচ। আমাদের উচিত খেলাধুলা ও রাজনীতিকে আলাদা রাখা। ফকল্যান্ডস যুদ্ধে প্রাণ হারানো আর্জেন্টাইনদের আমরা সম্মান জানাই, তবে বহু বছর আগের সেই ঘটনার সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মের ফুটবলারদের কোনো সম্পর্ক নেই।’

সেমিফাইনালের আগে মাঠের বাইরের এই বাকযুদ্ধ ম্যাচটির উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তবে দুই দলের কোচই জোর দিচ্ছেন, রাজনৈতিক বিরোধ নয়, সিদ্ধান্ত হবে মাঠের ফুটবলেই।