
শিক্ষার্থী বিক্ষোভের ওপর পুলিশি দমন-পীড়ন এবং নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যকার রাজনৈতিক উত্তাপ চরম আকার ধারণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, অবস্থান ও পুলিশি আটকের পর কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। মঙ্গলবার(২১ জুলাই) রাতে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই দাবিগুলো উত্থাপন করেন।
১. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
২. সোমবারে (২০ জুলাই) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার।
৩. সোমবারে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি ক্র্যাকডাউনের (দমন-পীড়ন) জন্য প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা।
৪. সংসদে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা।
৫. দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার।
এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থানের পর রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন কংগ্রেস নেতাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। আটক করার পর রাহুল গান্ধীকে ছত্রশাল স্টেডিয়ামে এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে মন্দির মার্গ থানা হেফাজতে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে রাত ৯টার দিকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাহুল গান্ধী জানান যে, কেন বারবার প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে এবং শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে তা নিয়ে বিরোধী দল সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা চায়।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানা যায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান অভিযোগ করেন যে, কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধী শিক্ষার্থীদের স্বার্থের চেয়ে রাজনীতি নিয়ে বেশি ভাবছেন। সরকার সংসদে সার্বিক আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও কংগ্রেস সমাধানের পথ ছেড়ে রাজনৈতিক নাটক তৈরি করতেই বেশি আগ্রহী। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জীতেন্দ্র সিং জানান, সরকার নিট ইস্যুতে সংসদে আলোচনা করতে শতভাগ প্রস্তুত, কিন্তু রাহুল গান্ধী তার অবস্থান বারবার পরিবর্তন করছেন যা একজন জ্যেষ্ঠ নেতার কাছ থেকে অনভিপ্রেত।




















