
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিওকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ক্ষমার বার্তা দেওয়ার পর এবার সেই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি জানতে চেয়েছেন, কেবল মুখেই ক্ষমা করলেই হবে নাকি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলাগুলোও প্রত্যাহার করা হবে।
গত শুক্রবার নরেন্দ্র মোদি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। গত এক সপ্তাহে এটি ছিল তার ধারাবাহিক ভিডিও বার্তার পঞ্চম পর্ব। ওই ভিডিও বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, আন্দোলনের সময় কিছু তরুণ তার বিরুদ্ধে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছে এবং তার প্রয়াত মাকে পর্যন্ত অপমান করেছে। তা সত্ত্বেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে সেই শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করে দিচ্ছেন।
মোদি আরও বলেন, গালিগালাজ বা অপমান করে কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। শাস্তি, মামলা কিংবা হয়রানির মাধ্যমেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয় না; বরং বিভ্রান্ত তরুণদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তার এই বক্তব্য প্রকাশের পরই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
ভিডিওটির মন্তব্যের ঘরে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অভিজিৎ দীপকে লেখেন, কেবল ক্ষমার কথা বললেই চলবে না, আন্দোলনের জেরে যেসব মামলা করা হয়েছে, সেগুলোর কী হবে—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। তার এই মন্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে দিল্লির যন্তর মন্তরে ব্যাপক ছাত্র আন্দোলন হয়েছিল। ওই আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে নয়ডার এক কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের ক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পায়। আন্দোলন দীর্ঘায়িত হয়ে একপর্যায়ে রাজনৈতিক রূপ নেয় এবং কেন্দ্রের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। তবে আন্দোলন ঘিরে হওয়া মামলাগুলোর আইনি জট ও বিতর্ক এখনও কাটেনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করছেন। অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি, কেবল আবেগঘন বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতির সুরাহা হবে না। আন্দোলনের সময় যাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তাদের বিষয়ে সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়—সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে শাসক দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোনো মন্তব্য করা হয়নি।






















