
বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রীর উত্তর দেওয়ার জন্য নির্ধারিত তারকা চিহ্নিত সবকটি প্রশ্নই সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। বুধবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ বিষয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘আজ প্রধানমন্ত্রীর জন্য যে প্রশ্নোত্তর রাখা হয়েছে, সেখানে আটটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্নই সরকারি দলীয় সংসদ সদস্যদের। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরাও প্রশ্ন জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু আগে আপনি (স্পিকার) আমাদের চারটি সুযোগ দিলেও আজকে আটটির সবগুলোই ছিল সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের।’
সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা যত বেশি প্রশ্ন করবেন, জবাবদিহিতার সংস্কৃতি তত বেশি শক্ত হবে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে বিশেষ খেয়াল রাখার জন্য স্পিকারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
নাহিদ ইসলামের এই অভিযোগের জবাবে সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, সরকার সবসময়ই জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে চায় এবং সরকার জবাবদিহিমূলক। তবে প্রশ্ন বরাদ্দের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে নিয়ম ও অগ্রগণ্যতার বিষয়টি প্রাধান্য পায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখানে সরকারি দল বা বিরোধী দল বলে কথা নয়। নিয়ম অনুযায়ী যিনি প্রশ্ন আগে জমা দেবেন, তিনি আগে সুযোগ পাবেন—এটাই হলো পদ্ধতি এবং এটি সিলেক্ট করেন মাননীয় স্পিকার।’
বিরোধী দলের সদস্যরা পিছিয়ে পড়লে তা তাদের নিজস্ব অসুবিধা উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এখন থেকে সবাই সময়মতো প্রশ্ন জমা দেওয়ার প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম প্রশ্ন জমার প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে বলেন, প্রশ্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সিরিয়ালকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করে স্পিকার বলেন, ‘আমার পরিষ্কার মনে আছে, অতীতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বিছানাপত্র নিয়ে আগের রাতেই প্রশ্ন জমা দেওয়ার অফিসের সামনে পজিশন নিতেন। আরও দুই-একজন সদস্য আছেন, যারা আগের রাত সেখানে শুয়ে থাকতেন। এ ছাড়া অনেক সদস্য তাদের প্রাইভেট সেক্রেটারিকে সেখানে পাঠাতেন।’
সংসদ সদস্যরা আগে থেকেই এসে নিজেদের প্রায়োরিটি নিশ্চিত করেন জানিয়ে স্পিকার বলেন, প্রশ্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের মধ্যে একটি তুমুল প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। তাই বিরোধী দলের সদস্যদেরও এই ঐতিহ্য ও নিয়ম অনুসরণ করে আগে প্রশ্ন জমা দেওয়ার চেষ্টা করার পরামর্শ দেন তিনি। সেই সঙ্গে বিষয়টি ভবিষ্যতে যথাযথভাবে বিবেচনা করার আশ্বাসও দেন স্পিকার।























