• আজ ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

রাজপথে ফয়সালার সময় এসেছে : রিজভী

| নিউজ রুম এডিটর ৪:৩২ অপরাহ্ণ | জুলাই ২৬, ২০২৩ বিএনপি, রাজনীতি

আগামীকাল বিএনপির মহাসমাবেশে জনতার ঢল নামবে মন্তব্য করে দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, মহাসমাবেশ উপলক্ষে আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। নেতাকর্মীরা সরকারের সকল রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে মহাসমাবেশে যোগ দেবে। কারণ এখন রাজপথে ফয়সালা করার সময় এসেছে।

বুধবার (২৬ জুলাই) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী গতকাল লন্ডনে দেয়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য তুলে ধরেন। তারেক রহমানের বরাত দিয়ে রিজভী বলেন, তিনি নিশিরাতের এই সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভোটাধিকার আদায়ে রাজপথ দখলের জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। সারাদেশ থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামীকাল ২৭ জুলাই ঢাকার মহাসমাবেশে যোগ দেয়ার জন্য দল মত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে গণতন্ত্রকামী ভোট বঞ্চিত গোটা দেশের মানুষকে আহ্বান জানিয়েছেন।

রিজভী বলেন, তারেক রহমান বলেছেন, চলমান আন্দোলনকে চূড়ান্ত সফলতায় নিতে বিএনপি এবং গণতন্ত্রকামী সকল রাজনৈতিক দল ২৭ জুলাই রাজধানী ঢাকায় মহাসমাবেশ আহ্বান করেছে। এই সমাবেশ, স্রেফ কোনো একটি রাজনৈতিক দলের ক্ষমতায় যাওয়ার সমাবেশ নয়। এই সমাবেশ ছাত্র-তরুণ-যুবক-নারী-শিশু এবং সকল শ্রেণী পেশার মানুষের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার সমাবেশ। এ সমাবেশ সাংবাদিকরা যাতে স্বাধীনভাবে লিখতে পারেন, সেই অধিকার প্রতিষ্ঠার সমাবেশ। এই সমাবেশ মানবাধিকার কর্মীরা যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন, তেমন পরিবেশ তৈরির সমাবেশ। এই সমাবেশ দেশের সিভিল সোসাইটি যাতে নিরাপদ পরিবেশে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করতে পারেন, তেমন রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার সমাবেশ। এই সমাবেশ ১২ কোটি মানুষের লুন্ঠিত ভোটের অধিকার পুনরুদ্ধারের সমাবেশ। রাজনীতিবিদরা যাতে মানুষের পক্ষে নির্ভয়ে কথা বলতে পারেন, এটি সেই অধিকার প্রতিষ্ঠার সমাবেশ।

বিএনপির এই নেতা বলেন, বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে। দুদক এবং নির্বাচন কমিশনের মতো বিচার বিভাগও এখন সরকারের ইচ্ছে পূরণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমানে দেশের সবচেয়ে অবিশ্বস্ত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নাম- নির্বাচন কমিশন। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার কথিত একটি উপনির্বাচন এবং নতুন রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দেওয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের আচরণ রীতিমতো ফৌজদারি অপরাধের সামিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, স্বাধীনতার ঘোষকের একজন সৈনিক, বিএনপির একজন নেতাকর্মী বেঁচে থাকতেও গণতন্ত্রকামি জনগণের আন্দোলন ব্যর্থ হতে পারে না। ৫২’র ভাষা আন্দোলন জনগণ ব্যর্থ হতে দেয়নি। ৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ জনগণ ব্যর্থ হতে দেয়নি। বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র-মানবাধিকার-ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার চলমান আন্দোলনও জনগণ ব্যর্থ হতে দেবে না। দাবি আদায় করে তবেই জনগণ ঘরে ফিরবে। জনগণের বিজয় হবেই হবে।

র‌্যাব-পুলিশ এবং জনপ্রশাসন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমর্থন থাকা স্বাভাবিক। তবে বিএনপি আশা করে, প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে সেই সমর্থন ব্যক্ত করার একমাত্র জায়গা হওয়া উচিত ভোট কেন্দ্র। সুতরাং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতি সুস্পষ্ট বার্তা হচ্ছে রাষ্ট্র অর্পিত দায়িত্বের অপব্যবহার করে মানুষের ভোটের অধিকার হরণের সঙ্গে আপনি কোনোভাবেই নিজেকে জড়াবেন না।

তিনি বলেন, জনগণের চলমান এই আন্দোলন প্রশাসনের বিরুদ্ধে নয়। আপনারা সতর্ক থাকবেন, জনগণের আন্দোলন সম্পর্কে সরকার নানারকম গুজব ছড়িয়ে আপনাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করবে। আপনারা এসব গুজবে কান দেবেন না। আপনাদের কারো ভয়ের কোনো কারণ নেই। আপনারা নিজেকে সরকারের ক্ষমতার লালসা মেটানোর হাতিয়ারে পরিণত করবেন না। বলেন রিজভী।

তিনি আরো বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেছেন, আওয়ামী দুর্নীতিবাজ কিছু ব্যবসায়ীর বাজার সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলছে। ফলে অর্থাভাবে অর্ধাহারে অনাহারে কাটছে মানুষের জীবন। দেশে চলছে নীরব দুর্ভিক্ষ। দেশে এখন সর্বক্ষেত্রে পাহাড়সম বৈষম্য। সরকারি দলের বেপরোয়া লুটপাটে দেশের প্রায় সবকটি ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে গেছে। এ অবস্থার পরিবর্তন অনিবার্য। পরিবর্তনের জন্য দরকার জনগণের ক্ষমতায়ন। জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষা এবং টেকসই গণতন্ত্র সম্ভব নয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, আবুল খায়ের ভূইয়া, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।