
ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ত্রিপলের ছাউনি দিয়ে বানানো ‘নামাজের জায়গাসহ’ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
রোববার দুপুরে গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সেখানে অভিযান চালায়।
ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রাসেল রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নামাজের জায়গা বলে আলাদা কোনো ব্যাপার নেই। যত অবৈধ স্থাপনা ছিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতর, সবই উচ্ছেদ করা হয়েছে।”
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরে বানানো হয়েছিল নামাজের জায়গা। পাশে ওজুর জন্য রাখা ছিল পানির ড্রাম। এক জায়গায় সাদা কাগজে ‘নামাজের জায়গা’ লিখে ঝুলিয়েও দেওয়া হয়েছিল। আর মসজিদ তৈরির জন্য নেওয়া হচ্ছিল ‘গণস্বাক্ষর’। শুক্রবার দুপুরে সেখানে জায়নামাজ পেতে নামাজও পড়েন একদল লোক।
উদ্যানে এমন কর্মকাণ্ড দেখতে ভিড় করছিলেন অনেকে। রাজিব শাহ নামে একজন নামাজের জায়গাটি তৈরি করেছিলেন বলে উদ্যানের লোকজনের ভাষ্য।
এ পরিস্থিতিতে নামাজের জায়গাসহ সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। অভিযানের আগে গেল বৃহস্পতিবার নোটিসও দেওয়া হয়।
নোটিসে বলা হয়, “সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কিছু বহিরাগত অসাধু ভবঘুরে ও একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মন্দিরের গেট বরাবর কিছু অবৈধ দোকানপাট বসিয়েছে এবং উদ্যানের এম্পিথিয়েটার সংলগ্ন কিছু স্থান জুড়ে অস্থায়ী নামাজের স্থান নির্মাণের নামে উদ্যানের জায়গা দখল করে দিনরাত অবস্থান করছেন। প্রকল্পের আওতাধীন একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন মসজিদ উদ্যানে থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এই বহিরাগতরা অস্থায়ী নামাজের স্থান নির্মাণ করে নিয়মিত অবস্থান করছেন বলে সর্বসাধারণ মনে করছে।
“তাদের বারবার ওই স্থান ছেড়ে যাওয়ার জন্য বলা হলেও তারা হুমকি-ধমকি দেখানোসহ গণপূর্ত উপ-বিভাগের কর্মচারী ও আনসার বাহিনীর সঙ্গে রূঢ় আচরণ করছেন। এ বিষয়ে রমনা গণপূর্ত উপ-বিভাগ-৩ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।”
রোববার সেখানে অভিযানের আগে উদ্যানের নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে আহ্বায়ক করে ১১ সদস্যের কমিটি করা হয়। এতে ডিএমপি ও ডিএসসিসির প্রতিনিধিদেরও রাখা হয়।

















