=== console.log('header!'); // вставь сюда свой код полностью
  • আজ ১৯শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেসবুকে তান্ত্রিক পরিচয়ে প্রতারণার সংঘবদ্ধ চক্র ধরা

| নিউজ রুম এডিটর ৪:৩১ অপরাহ্ণ | ২৭/০৭/২০২৬ অপরাধ-দুর্নীতি

গ্রেপ্তার হয়েছে তিন আসামি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ‘তান্ত্রিক’ এবং ‘কবিরাজ’ পরিচয়ে ধর্মীয় বিশ্বাস, পারিবারিক সংকট ও কুসংস্কারকে পুঁজি করে চরম প্রতারণা চালিয়ে আসছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। তারা ভুক্তভোগীদের শরীরে রাসায়নিক কৌশলে ক্ষত তৈরি করে তা ‘জ্বীনের আছর’ অথবা ‘অলৌকিক শক্তির প্রভাব’ বলে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করত। পিবিআই এই চক্রটির রহস্য উন্মোচনের দাবি করেছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে রাজধানীর দক্ষিণ কল্যাণপুরে পিবিআই স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশন (এসআইঅ্যান্ডও-উত্তর) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ফজলে এলাহী এ চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান। তিনি জানান, এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা হলেন কুমিল্লার চান্দিনা এলাকার অহিদ মিয়া ওরফে কুয়েত (২৪), মাহে আলম (২৭) এবং নোয়াখালীর সুধারাম এলাকার মো. হাসান আলী (২০)। এর মধ্যে দুজন আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

পিবিআই জানায়, রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকার এক নারী ফেসবুকে ‘রহমত আলী কবিরাজ’ নামের একটি আইডির মাধ্যমে কথিত তান্ত্রিকের সঙ্গে পরিচিত হন। স্বামীকে পরকীয়া থেকে ফেরানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে তার কাছ থেকে ‘হাদিয়া’ বাবদ ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং পরে ‘জালালী কবুতর’ কেনার নামে আরও ৩ হাজার ৫০০ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে তারা তাকে পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট ও রসালো মিষ্টির নির্দেশনা দিয়ে তা ব্যবহার করতে বলে। ওই নারীর হাতে মারাত্মক ক্ষত সৃষ্টি হয়, যার পর তারা তাকে ভয় দেখিয়ে এবং ক্ষত সারিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সর্বমোট ২১ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।

গত ২১ জুন খিলক্ষেত থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর আওতায় মামলা দায়ের করার পর পিবিআই তদন্তে নামে। ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে তারা আসামিদের সন্ধান পায়। ২৪ জুলাই কুমিল্লা এবং নোয়াখালীতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড জব্দ করা হয়।

পিবিআই কর্মকর্তারা জানান, চক্রটি বহু ভুয়া ফেসবুক আইডি পরিচালনা করছিল, এবং বিভিন্ন নারীদের পারিবারিক সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়ে প্রতারণা করছিল। ভারতেও তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত ছিল, যেখানে তারা হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার করত। চিকিৎসা নেওয়া ২০০ জন ভুক্তভোগীর মধ্যে অনেকেই লজ্জা ও কুসংস্কারের কারণে মুখ খুলতে পারেননি।

পিবিআইয়ের একজন বিশেষ পুলিশ সুপার সতর্কবার্তা দেয়, ‘প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ধর্মীয় বিশ্বাস ও কুসংস্কারকে কাজে লাগিয়ে এ ধরনের প্রতারণার বিরুদ্ধে পিবিআই জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।’