
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ভিত্তিতে নজরদারির অভিযোগ তুলে আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মীরা। কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় যুব বিক্ষোভে ব্যবহৃত এই নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে করা একটি মামলা কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা ও নজরদারি নীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হতে যাচ্ছে।
সম্প্রতি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় এই নজরদারি বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে। বিক্ষোভকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কিছু ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে দেখা যায়, ক্যামেরাসংবলিত একটি মোবাইল পুলিশ নজরদারি ভ্যান ব্যবহার করা হচ্ছে। ভ্যানটির ওপর থাকা টেলিস্কোপিক মাস্টে স্থাপিত ক্যামেরা পুরো সমাবেশের ৩৬০ ডিগ্রি দৃশ্য ধারণ করতে সক্ষম।
শিক্ষার্থী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক আইশে ঘোষ দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। তিনি আদালতের কাছে দাবি জানিয়েছেন যে, বিক্ষোভকারীদের ওপর ব্যাপক নজরদারিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হোক। পাশাপাশি, বিক্ষোভ চলাকালে সংগ্রহ করা ব্যক্তিগত তথ্য ধ্বংস এবং নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়ার আবেদনও করেছেন।
বিক্ষোভ শেষ হলেও মামলাটি চালিয়ে যাচ্ছেন আইশে ঘোষ। ওই আন্দোলনের পর শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন, যা প্রধানমন্ত্রী মোদির সরকারের জন্য বিরল রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এরপর মোদি সরকার পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের জন্য একটি কমিটির গঠন করার ঘোষণা দেয়।
মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, ভারতে পুলিশের মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য কোনো নির্দিষ্ট আইন নেই। তাই দিল্লির মূল বিক্ষোভস্থলে এ ধরনের নজরদারি আইন লঙ্ঘনের শামিল। তবে ভারত সরকার বলছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং জনস্বার্থ রক্ষার জন্য এ ধরনের নজরদারি বৈধ ছিল।
বিরোধী দল ও ডিজিটাল অধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে, মোদি সরকার নজরদারির ক্ষমতা বাড়াচ্ছে এবং ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ কঠোর করছে। কিন্তু সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, সব কার্যক্রমই জনস্বার্থে পরিচালিত হয়।
শুক্রবারের শুনানিতে ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা পুলিশের পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি বলেন, জনসমাবেশে গোপনীয়তার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা ‘বিরোধাভাসপূর্ণ’। তার দাবি, এ ধরনের নজরদারি ‘সম্পূর্ণ প্রয়োজনীয়’ এবং ‘রাষ্ট্রের বৈধ স্বার্থের অংশ’। সোমবারের সংক্ষিপ্ত শুনানিতে আইশে ঘোষের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত ও ব্যাপক নজরদারি তাদের অধিকারের ওপর অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ। তারা বিক্ষোভ চলাকালে রাষ্ট্রের নজরদারি নীতি সম্পর্কেও আরও তথ্য প্রকাশের দাবি জানান। আদালত আগামী মঙ্গলবার এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি করবেন।



















