
ভারতের উত্তরাখণ্ডের মুসৌরিতে দুই শ বছরের পুরোনো একটি মুসলিম কবরস্থানের ভেতরে জানাজার নামাজ আদায় করার নির্দিষ্ট স্থান উচ্ছেদ করার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। লক্ষ্মণপুরী এলাকায় অবস্থিত ওই কাঠামোটিকে পৌরসভার জমি দাবি করে স্থানীয় প্রশাসন গুঁড়িয়ে দেয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন মুসৌরি-দেরাদুন মহাসড়ক অবরোধ করে প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।
বিক্ষোভকারীরা জানান, ভেঙে ফেলা কাঠামোটি কোনো মসজিদ ছিল না। এটি ছিল মূলত টিনের চালার একটি ছাউনি, যা দাফনের আগে মৃত ব্যক্তির জানাজা আদায় করার কাজে ব্যবহৃত হতো। স্থানীয় ধর্মীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই শ বছর ধরে এই স্থানটি ধর্মীয় কাজে ব্যবহার হয়ে আসছে এবং সেখানে তাঁদের পূর্বপুরুষদের কবরও রয়েছে। জমিটি যদি সরকারি হয়েই থাকে, তবে এতদিন কেন কোনো বাধা দেওয়া হলো না—এমন প্রশ্ন তুলে তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি, কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই আকস্মিক এই পদক্ষেপে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে, মুসৌরির মহকুমা শাসক রাহুল আনন্দ প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করে জানান, রাজস্ব বিভাগ, পৌরসভা, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড ও ওয়াকফ বোর্ডের নথি যাচাই করে দেখা গেছে যে এই জমির মালিকানা ওয়াকফ বোর্ড বা অন্য কোনো ব্যক্তিবিশেষের নয়; এটি সম্পূর্ণ মুসৌরি পৌরসভার জমি। তিনি দাবি করেন, অবৈধ দখল চিহ্নিত করার পর সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নিজ দায়িত্বে তা সরিয়ে নিতে তিনবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নোটিশ উপেক্ষা করায় আইনগত প্রক্রিয়া মেনে পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতেই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
এই বিক্ষোভের কারণে মুসৌরি-দেরাদুন সড়কে কিছুক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হলেও প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বিক্ষোভকারীদের সাথে আলোচনার পর তাঁরা সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন। বর্তমানে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দাবি করলেও ঐতিহ্যবাহী এই কবরস্থানের অংশ বিশেষ ভেঙে ফেলায় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের ক্ষোভ এখনো পুরোপুরি কাটেনি।




















