=== console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block.
  • আজ ২৫শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ আটক ৩০০০, সিজেপির আন্দোলন ঘিরে অচল দিল্লি

| নিউজ রুম এডিটর ৭:০৪ অপরাহ্ণ | ১০/১০/২০২৬ বিশ্ব সংবাদ, ভারত

ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে দেশটির পুলিশ। শনিবার সকাল থেকে দিনভর চলা এই অভিযানে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যয়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং ত্রিপুরার মানিক সরকারসহ বিরোধী দলের বহু নেতা ও আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তত ৩০০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।

 

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) উদ্যোগে আয়োজিত এই বিক্ষোভের মূল দাবি ছিল ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এতে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সুবিধা পেয়েছে বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

 

শনিবার সকাল থেকেই দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের জমায়েত ঠেকাতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। শহরের বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয়। কয়েকটি মেট্রো স্টেশন ও বাজার বন্ধ রাখা হয় এবং কেন্দ্রীয় দিল্লির কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবা স্থগিত করা হয়।

 

বিমান থেকে আটক সিজেপির নেতারা

 

সকালে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলটির নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে বিমান থেকেই আটক করা হয় বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বিমান থেকে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে অভিজিৎ দীপকেকে বলতে শোনা যায়, তারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নিতে এসেছেন। অথচ তাদের অপরাধীর মতো আটক করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

এর আগে সিজেপির আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিংকেও আটক করা হয়। দলটির অভিযোগ, তাকে রাস্তায় গাড়ির ভেতর থেকে আটক করে পুলিশ। এ ছাড়া ইউটিউবার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ধ্রুব রাঠিকে গুরুগ্রামে তার বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়।

মমতা ও কেজরিওয়াল আটক

 

দুপুরে দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে আটক করে পুলিশ। যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার সময় তাকে আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

একই দিন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীকেও আটক করা হয়। তিনি দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ এলাকায় অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ করছিলেন। এ সময় তার সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন নেতাকেও আটক করা হয়। তাদের মধ্যে রাজ্যসভার সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেন রয়েছেন।

 

পুলিশি পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধী নেতারা অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে তাদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

বামপন্থী নেতারাও আটক

 

বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়ে কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নসহ একাধিক বামপন্থী নেতা আটক হন। তাদের মধ্যে সিপিআই(এম)-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, বাম নেত্রী বৃন্দা কারাট, এম ভি গোবিন্দন ও পি কে শ্রীমতীর নামও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

সিপিআই(এম) সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস অভিযোগ করেন, পুলিশ তাদের কয়েকজনকে দীর্ঘ সময় ধরে দিল্লির বিভিন্ন স্থানে ঘোরানোর পর ছত্রসাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যায়। সেখানে কিছুক্ষণ রাখার পর আবার অন্যত্র নেওয়া হয়। তবে কোথায় নেওয়া হচ্ছে, তা তাদের জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

বামপন্থী ছাত্রনেত্রী নেহা বোরাকেও আটক করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়। আটক হওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি আন্দোলনকারীদের যেখানে বাধা দেওয়া হবে, সেখানেই বসে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

 

গুরুদোয়ারা থেকে মিছিল, লাঠিচার্জের অভিযোগ

 

গত রাত থেকে দিল্লির বাংলা সাহিব গুরুদোয়ারায় আশ্রয় নিয়েছিলেন কয়েক শ বিক্ষোভকারী। শনিবার সকালে তারা যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয় এবং লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ ওঠে।

 

বিক্ষোভকারীদের দাবি, গুরুদোয়ারা এলাকায় প্রায় ৬০০ জন জমায়েত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৩০০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

হায়দরাবাদের সফটওয়্যার প্রকৌশলী অজয় জিঙ্গাদের অভিযোগ, সকাল থেকেই আন্দোলনকারীরা যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। বিপুলসংখ্যক পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে লাঠিচার্জ করে অনেককে বাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

দিল্লির বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির খবরও পাওয়া যায়। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ দিল্লি হাট এলাকায় জড়ো হন। সিজেপি নেতা আজিঙ্ক্যা শিন্ডে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আহ্বান জানান, যেখানেই আন্দোলনকারীদের থামানো হবে, সেখানেই যেন তারা প্রতিবাদ চালিয়ে যান।

 

সাংবাদিক ও আইনজীবীদের আটকের অভিযোগ

 

বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিকও পুলিশের হাতে আটক হন বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের সামনে প্রতিবাদ করা কয়েকজন আইনজীবীকে আটক করার খবর পাওয়া যায়। পরে তাদের কয়েকজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়।

 

সিজেপির পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, দলটির কয়েকজন সদস্যের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক

 

ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরেই রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছিল। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

 

ভারতের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, যাচাই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষের স্থানান্তর, ৩ কোটি মানুষের খোঁজ না পাওয়া এবং ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষের মৃত্যুর বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, যাচাই প্রক্রিয়ায় চিহ্নিত নামগুলোই বাদ দেওয়া হয়েছে এবং যোগ্য কোনো ভোটারের নাম ভুল করে বাদ পড়লে তিনি পুনরায় নিবন্ধন করতে পারবেন।

 

অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হয়নি। বিজেপি অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, নির্বাচনে তাদের সাফল্যের পেছনে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা ও সরকারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।

 

শনিবারের ধরপাকড় ও বিক্ষোভে বাধা দেওয়ার ঘটনায় ভারতের নির্বাচনব্যবস্থার নিরপেক্ষতা, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং বিরোধীদের প্রতিবাদ করার অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

 

সূত্র: বিবিসি