
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে আদালতে নেওয়ার সময় নিজেকে ‘ফুললি স্ট্রং’ বলে দাবি করেছেন তিনি। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করার সময় এ কথা বলেন দীপ।
আদালতে নেওয়ার পথে দীপের কথোপকথনের একটি ভিডিও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, হলুদ টি-শার্ট পরা দীপের শরীরে ছিল বুলেটপ্রুফ ভেস্ট। মাথায় ছিল হেলমেট। হাতে হাতকড়া।
আদালতের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর দীপকে কড়া নিরাপত্তায় এজলাস থেকে বের করে হাজতখানায় নেয়া হচ্ছিল। এসময় বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা দীপের স্বজনরা বলেন, ‘স্ট্রং থাকো। স্ট্রং, স্ট্রং।’ তখন দীপ উত্তরে বলেন, ‘আমি ফুললি স্ট্রং।’
এরপর তাকে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। যাবার সময় তিনি আর কিছু বলেননি।
এর আগে আদালতে তোলা হলে কাঠগড়ায় দীপ চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলেন। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস তাকে ৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন আসামি দীপকে সাত দিনের রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করে ছিলেন।
আবেদনে বলা হয়, নিহত কে এম তাহসিফ সাউরি বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি তুরাগ থানার ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। গত ২৭ অক্টোবর আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টায় আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ তাকে ডেকে বাইরে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টায় জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে, উত্তরখান থানাধীন রাজাবাড়ী ঘাট সংলগ্ন তুরাগ নদীতে একটি অজ্ঞাত মরদেহ ভাসছে। পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল করার সময় নিহতের ট্রাউজারের পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে তার পরিচয় শনাক্ত করে।
পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, ঘটনার দিন নিহত সাউরিকে নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিল আসামি দীপ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীপ স্বীকার করে, নিহত সাউরি তার সিনিয়র ভাই ছিলেন।
প্রাথমিক তদন্তে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আসামি দীপের সরাসরি জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে এবং আসামি যাতে জামিনে বের হয়ে তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে না পারে, সেজন্য তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন বলে আবেদনে বলা হয়।
যেসব কারণে রিমান্ড চাওয়া হয়:
১. হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল রহস্য ও মোটিভ (কারণ) উদ্ঘাটন করার জন্য।
২. এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাতনামা অন্য আসামিদের শনাক্ত ও তাদের গ্রেপ্তার করার জন্য।
৩. হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ও মামলার প্রয়োজনীয় অন্য আলামত উদ্ধার করার জন্য।
৪. নিহত সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করার লক্ষ্যে। ৫. হত্যাকাণ্ডের মূল স্থান বা এটি কোথায় সংঘটিত হয়েছিল, তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করার জন্য।
শুনানিকালে তাকে এজলাসে তোলা হয়। রাষ্ট্র পক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল হক দিদার রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। পরে আদালত তার রিমান্ডের এ আদেশ দেন।
উল্লেখ থাকে, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে রাজধানীর উত্তরখান থানায় শুক্রবার রাত ১টা ৫ মিনিটে মামলা করেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। পরে এ মামলায় দীপকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।






















