
সুমন কুমার নিতাই, বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ায় কুন্দারহাট হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ তুলে বগুড়া-নাটোর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা।
রবিবার (৭ জুন) সকাল ১০টা থেকে শাজাহানপুর উপজেলার জামাদারপুকুর এলাকায় প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে থানা পুলিশের মধ্যস্থতায় বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলে চালকরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টার দিকে শতাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশা মহাসড়কের ওপর আড়াআড়িভাবে রেখে চালকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং অবিলম্বে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানান।
হঠাৎ এই অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় দেড় হাজার যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং তীব্র গরমে নারী-শিশুসহ হাজারো যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
বিক্ষোভকারী চালকদের অভিযোগ, বগুড়া থেকে নন্দীগ্রাম এবং নাটোরের সিংড়া পর্যন্ত সড়কে প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে। কুন্দারহাট হাইওয়ে পুলিশ প্রতিটি গাড়ি থেকে মাসিক ৮০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করে। পুলিশের নিয়োগ করা কিছু সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি (লাইনম্যান) এই চাঁদা সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত।
চালকদের ভাষ্য, চাহিদামতো এই মাসিক চাঁদা না দিলে মাঝপথেই যাত্রী নামিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া অটোরিকশা জব্দ করা, মিথ্যা মামলা দেওয়া এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি ও মারধরের হুমকি দেওয়া হয় বলেও তারা অভিযোগ করেন।
অবরোধের খবর পেয়ে শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল দ্রুত ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি বিক্ষুব্ধ চালকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর বেলা ১২টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে চালকরা মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন। এরপরই মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
চাঁদাবাজির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে কুন্দারহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজ উদ্দিন বলেন, “কোনো সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে হাইওয়ে পুলিশের চাঁদা নেওয়ার তথ্য সত্য নয়। তবে যদি কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও দাবি করেন, “গতকাল মহাসড়কে অবৈধভাবে চলাচলকারী একটি সিএনজির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা (মামলা) নেওয়া হয়েছিল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু চালক পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাঁদাবাজির কাল্পনিক অভিযোগ তুলে মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন।”
পি নিউজ বগুড়া





















