• আজ ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কোটি টাকার ব্যাংক হিসাবের বিপুল বৃদ্ধি

| নিউজ রুম এডিটর ১২:৪৬ অপরাহ্ণ | ২৬/০৭/২০২৬ অর্থনীতি

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের সময়কালে দেশে এক কোটি টাকা বা তার বেশি আমানত থাকা ব্যক্তি শ্রেণির ব্যাংক হিসাব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে ওই প্রকৃতির হিসাবের সংখ্যা ৩৩,৬২৯ থেকে বেড়ে ৪০,৬৪৫-এ পৌঁছেছে। অর্থাৎ, দেড় বছরের মধ্যে নতুন করে ৭,১৬টি কোটি টাকার হিসাব যুক্ত হয়েছে, যা প্রায় ২১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ‘ব্যাংকিং সেক্টর আপডেট’ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এসব হিসাবের জমা ছিল ৮৭,২০০ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১,৪০০ কোটি টাকায়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক স্থবিরতা এবং দারিদ্র্য বৃদ্ধির মতো পরিস্থিতিতে এত দ্রুত সময়ে কোটি টাকার হিসাবের এ বৃদ্ধি স্বাভাবিক অর্থনৈতিক প্রবণতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন খাতে নতুন প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সূচনা ঘটেছে। চাঁদাবাজি, দখলসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত অর্থের একটি অংশ ব্যাংকে জমা হওয়ায় কোটি টাকার হিসাব বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিনও উল্লেখ করেন যে, ক্ষমতার পরিবর্তনের পর নতুন ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী শ্রেণির উত্থান হয়েছে, যার কারণে তাদের হাতে অর্থের প্রবাহ বেশি হয়েছে এবং তাই কোটি টাকার ব্যাংক হিসাবও বেড়ে থাকতে পারে।

তবে, মানুষের ঘরে থাকা নগদ অর্থ ব্যাংকে জমা হওয়ার অনুপাত অনুযায়ী এসব হিসাব বৃদ্ধির পক্ষে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ব্যাংকের বাইরে জনগণের হাতে নগদ অর্থ ছিল ২,৮৩,৫৫৩ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩,০৩,০১৮ কোটি টাকায়।

এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশের ১৬টি বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে এবং আরো কয়েকটি ব্যাংকে চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন করা হয়েছে। পাশাপাশি, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে এবং ব্যাংকগুলো এখন সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগে অধিক আগ্রহী হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর নজরদারি এবং তদারকি জোরদার করেছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কোটি টাকার হিসাব বাড়তে পারে। তবে যদি এর পেছনে অবৈধ অথবা অপ্রদর্শিত অর্থের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।