
চুয়াডাঙ্গায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর উদ্যোগে পদযাত্রা ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল ৬টায় শহরের শহীদ হাসান চত্বর চৌরাস্তার মোড় ও বড়বাজার প্রাঙ্গণে চুয়াডাঙ্গা জেলা এনসিপির আয়োজনে এই কর্মসূচি হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন গত নির্বাচনে ভোট ডাকাতি ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা। যেখানে সরকারি চাকরি যোগ্যতার ভিত্তিতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পূর্ণ দলীয়করণমুক্ত রাখা হবে। কিন্তু বর্তমানে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন দপ্তরে দলীয় লোকজন বসানো হচ্ছে।’
আখতার হোসেন আরো বলেন, সম্প্রতি দর্শনা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের চেষ্টা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সফলভাবে প্রতিহত করেছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাষ্ট্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও সীমান্ত নিরাপত্তায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষভাগে তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন এবং তাদের রাজনীতিতে পুনর্বাসনের বিরোধিতা করেন। পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জনআকাঙ্ক্ষা নিয়ে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, আগামীর লড়াই কোনো দলীয় লড়াই নয়; এটি ন্যায়-অন্যায় এবং জুলুমের বিরুদ্ধে ভালো ও মন্দের লড়াই। এনসিপি যদি জনগণের কল্যাণে ভালো কাজ করে তবেই মানুষ তাদের সমর্থন দেবে, অন্যথায় নয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক খাজা আমিরুল বাশার বিপ্লবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ পথসভায় আরো বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের একাধিক শীর্ষ নেতা। উপস্থিত ছিলেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মাহমুদা আলম মিতু এমপি, যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসুম এমপি, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, সরওয়ার তুষার এবং যুগ্ম সদস্য সচিব মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক আহসান। এছাড়া স্থানীয় নেতাদের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা এনসিপির সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: সোহেল পারভেজ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো: গোলাম সারোয়ার ছোটন, মো: আলী রুশদী মজনু এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক ও বর্তমান চুয়াডাঙ্গা জেলা সমন্বয়ক উপস্থিত ছিলেন। এর আগে তারা চুয়াডাঙ্গার জুলাই শহীদ শাহরিয়ার শুভর কবর জিয়ারত করেন।




















