
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভুত্থানে সাভারের রাজপথে সামনের সারিতে থেকে লড়াই করা মেহেদী হাসান রিয়াজ বর্তমানে একটি হত্যা মামলায় কারাবন্দী রয়েছেন। পটপরিবর্তনের পর দায়ের হওয়া ওই মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে। অথচ আন্দোলন চলাকালীন তোলা ছবি ও ভিডিও এবং সহযোদ্ধাদের সাক্ষ্য বলছে, রিয়াজ নিজে একজন সক্রিয় আন্দোলনকারী ছিলেন। গত ১৪ জুলাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
সাভার মডেল থানায় দায়ের করা মামলাটির বাদী নিপু আলী। গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর করা এই মামলায় ১৫৩ জনের নাম উল্লেখ করা ছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ৫ আগস্ট সাভারের ব্যাংক কলোনী ও রেজিস্ট্রি অফিস মোড় এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের সময় সুমন হাসান নামের এক তরুণ নিহত হন। মামলার এজাহারে রিয়াজকে একজন এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা ও সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) চম্পক বড়ুয়া জানান, এজাহারভুক্ত আসামি হওয়ায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে রিয়াজকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার তদন্ত চলছে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাভার নিউমার্কেটের ভূগর্ভস্থ ‘আদিল এক্সপোর্ট’ নামের একটি কাপড়ের দোকানে গত সাত-আট বছর ধরে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন রিয়াজ। গত ১৩ জুলাই বিকেলে দোকান থেকে তাকে পুলিশ তুলে নিয়ে যায়।
দোকানের স্বত্বাধিকারী মো. ইব্রাহিম জানান, রিয়াজ অত্যন্ত নিরীহ প্রকৃতির এবং তিনি কখনোই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। আন্দোলনের সময়কার বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণেও রিয়াজের সক্রিয় উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। সহযোদ্ধা মেহেদী হাসান মুন্না বলেন, ১৮ জুলাই যখন সাভারে তীব্র গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হচ্ছিল, তখন রিয়াজ সামনের সারিতে থেকে আন্দোলনকারীদের সহায়তা করেছিলেন। জীবন বাজি ধরে লড়াই করা একজন কর্মীকে কীভাবে হত্যা মামলায় আসামি করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার সহযোদ্ধারা।
রিয়াজের বোন মরিয়ম জানান, পরিবারের অমতে তারা দুই ভাই-বোনই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। রিয়াজের উপার্জনেই তাদের পরিবার চলত এবং অসুস্থ বাবার চিকিৎসা হতো। তার দাবি, তার ভাই সম্পূর্ণ নির্দোষ। রিয়াজের বাবা বেলালের অভিযোগ, ব্যবসায়িক বিরোধ ও পারিবারিক শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষ একটি গোষ্ঠী ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তার ছেলেকে এই মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে।
এ বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান বলেন, রিয়াজ যদি সত্যিই জুলাই যোদ্ধা হয়ে থাকেন এবং তাকে যদি ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আসামি করা হয়ে থাকে, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আইনের সাম্প্রতিক সংশোধনীর মাধ্যমে এ ধরনের হয়রানি থেকে তাকে আইনি রেহাই দেওয়া উচিত।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী পরিবার আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নথি ও আন্দোলনকারী হওয়ার প্রমাণ জমা দিলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং কোনো কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করে থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















