
দুপুরে দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে শেষবারের মতো ভাত খেয়েছিলেন সেকান্দার আলী। কে জানত, সেটিই হবে দুই সন্তানের সঙ্গে তার জীবনের শেষ মধ্যাহ্নভোজ। পরদিন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে একটি শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ হারান তার দুই ছেলে মো. মনসুর ও মো. নাসির। একসঙ্গে দুই সন্তানকে হারিয়ে এখন শোকে দিশেহারা ওই বৃদ্ধ বাবা।
শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ভাটিয়ারী ইউনিয়নের সাগর উপকূলে অবস্থিত ফেরদৌস রিসাইক্লিং শিপইয়ার্ডে একটি পুরোনো এলএনজিবাহী জাহাজের ট্যাংক থেকে গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটে। বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে মোট ৯ জনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন আরও ১০ জনের বেশি। নিহতদের মধ্যে সেকান্দার আলীর দুই ছেলেও রয়েছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সেকান্দার আলী বলেন, ‘১৭ বছর ধরে আমার দুই ছেলে ওই শিপইয়ার্ডে কাজ করে আসছে। কিন্তু কখনো কোনো বিপদের মুখে পড়েনি। এখন আমাকে একসঙ্গে দুই ছেলেকে হারাতে হলো। আর কোনো দিন আমার সন্তানরা বাবা বলে ডাকবে না। বাবা, ভাত খেতে আসো তাড়াতাড়ি—এ কথাও কেউ বলবে না। এখন আমার নাতনিদের কে দেখবে, তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে?’ তিনি ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের অবহেলার অভিযোগ করে বলেন, আহতদের সময়মতো চিকিৎসাসেবা দেওয়া হলে হয়তো তাদের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো।
নিহত মনসুরের বড় মেয়ে রুপা আক্তার অভিযোগ করেন, শুক্রবার ইয়ার্ড বন্ধ থাকার কথা থাকলেও তাঁর বাবাকে জোর করে কাজে নেওয়া হয়েছিল। দুর্ঘটনার পর আহতদের প্রায় দুই ঘণ্টা ইয়ার্ডের ভেতরে আটকে রাখা হয়েছিল বলেও জানান তিনি। রুপা বলেন, ‘সকালে দ্রুত চিকিৎসা পেলে হয়তো বাবা বেঁচে যেতেন। এখন আমাদের কে দেখবে? আমরা তিন বোন, আমাদের কোনো ভাই নেই। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন বাবা।’
দুই ভাইয়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজন ও এলাকাবাসীর আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা জানান, মনসুর ও নাসির দুজনই এলাকায় অত্যন্ত ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
এদিকে শিপইয়ার্ডের মালিক ফেরদৌস ওয়াহিদ জানিয়েছেন, আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে এবং নিহতদের পরিবারকে সরকারি বিধি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হবে।























