• আজ ১৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মক্কা চুক্তিতে সরকারের আগ্রহকে ইতিবাচক দেখছেন আসিফ মাহমুদ

| নিউজ রুম এডিটর ৭:১৯ অপরাহ্ণ | ৩১/০৮/২০২৬ জাতীয়

মক্কা চুক্তিতে যোগদানের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের আগ্রহকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত স্বাধীনতা ও ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। GeographicReference

 

আসিফ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখার দরজা খোলা রেখেই যেকোনো ধরনের বাণিজ্যিক কিংবা সামরিক চুক্তিতে যাওয়া প্রয়োজন।

 

সৌদি আরবে পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে সোমবার সকালে দেশে ফিরেছেন আসিফ মাহমুদ। ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

 

এনসিপির মুখপাত্রের পাশাপাশি দলের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ডায়াস্পোরাবিষয়ক উপকমিটির প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন আসিফ মাহমুদ।

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এমন হতে হবে, যাতে কোনো একটি পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে গিয়ে অন্য কোনো রাষ্ট্র বা অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

 

দেশের চলমান তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, অতিরিক্ত দাম ও বিভিন্ন ভুতুড়ে বিল পরিশোধের পরও নাগরিকেরা পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। এতে দেশের পরিস্থিতি ২০০৫ সালের আগের সময়ের মতো সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে।

 

প্রবাসী শ্রমবাজারে অনিয়ম ও বিমানের টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সৌদি আরবের বিমানের টিকিটের দাম প্রায় ৩৫০ ডলার বা ৪০ হাজার টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছিল। বর্তমানে সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণে একই টিকিটের দাম ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা, এমনকি ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। দেশের বিভিন্ন খাতে নতুন করে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

 

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির এই নেতা বলেন, অন্যান্য দেশের কর্মীদের তুলনায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় যেতে প্রায় ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা ন্যায্য পরিস্থিতি নয়। প্রবাসী কর্মীদের বিদেশে যাওয়ার ব্যয় কমাতে এবং শ্রমবাজারে মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত লংমার্চ সম্পর্কে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘লংমার্চের মাধ্যমে আমরা মূলত জনগণের কষ্টগুলো তুলে ধরতে চাই। এটি শুধু আমাদের সংস্কারের প্রতিশ্রুতির অংশই নয়, বরং বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ।’