• আজ ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের নিয়ে যা বললেন সারোয়ার তুষার

| নিউজ রুম এডিটর ১১:২০ অপরাহ্ণ | ৩০/০৮/২০২৬ জাতীয়

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের সঙ্গে সরেজমিনে গিয়ে পাওয়া বাস্তবতার পার্থক্য রয়েছে বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার।

 

রোববার (৩০ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি করেন তিনি।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আলোচিত মাদ্রাসায় গিয়ে ঘটনার ভিন্ন চিত্র পেয়েছেন উল্লেখ করে সারোয়ার তুষার বলেন, ‘মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করতে যায়নি; বরং গভীর রাতে উচ্চ শব্দে তাদের পড়াশোনা ও ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায় শব্দ নিয়ন্ত্রণের অনুরোধ করতে পুলিশ লাইন্সে গিয়েছিল।’

 

তুষার লিখেছেন, ‘ঘটনা আর ঘটনার বর্ণনার মধ্যে থাকে এক অমোচনীয় ফাঁক। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা সেটাই আবার প্রমাণ করল। গতকাল সরেজমিনে বি বাড়িয়ার আলোচিত মাদ্রাসায় গেলাম।’

 

তিনি বলেন, মাদ্রাসাটির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে বলা হচ্ছে, তারা ‘কনসার্ট বন্ধ করে দিয়েছে’। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে তিনি ভিন্ন তথ্য পেয়েছেন।

 

এনসিপির এ নেতা বলেন, কনসার্টের আয়োজক ছিল জেলা পুলিশ এবং ভেন্যু ছিল জেলা পুলিশ লাইনস। আলোচিত মাদ্রাসাটি পুলিশ লাইন্সের রাস্তার অপর পাশে অবস্থিত। মাঝখানে একটি সরু রাস্তা রয়েছে।

 

তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর পুলিশ লাইন্সে কনসার্ট হয়। এবারও হয়েছে।’ ‘কনসার্ট বন্ধ বা এ জাতীয় কিছুই হয় নাই’ বলেও দাবি করেন তিনি।

 

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সারোয়ার তুষার বলেন, রাত আনুমানিক ১২টার দিকে কনসার্টের উচ্চ শব্দে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ঘুমে ব্যাঘাত ঘটছিল। ভোরে নামাজ পড়া ও দৈনন্দিন পড়াশোনা শুরু করার কারণে শিক্ষার্থীদের আগে ঘুমাতে হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

তিনি বলেন, রাত ১২টার দিকে প্রায় ৫০ জন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সে গিয়ে অনুরোধ করেন, সাউন্ড যেন এমনভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হয় যাতে তা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে না পৌঁছায়। এই অনুরোধের পর প্রেষণে থাকা কয়েকজন তরুণ পুলিশ সদস্য শিক্ষার্থীদের মারধর করেন।

 

সারোয়ার তুষার আরও দাবি করেন, পুলিশ সদস্যরা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ‘নজিরবিহীনভাবে’ পিটিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, অন্তত ৩৮ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের অনেককে পাইপ দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

 

তিনি লেখেন, ‘মাথায় লাঠিচার্জ করা হয়, এমন কথা জিন্দেগিতে শুনিনি। মারের ধরন দেখে মনে হয় কোনো এক দুর্নিবার আক্রোশ থেকে এভাবে আঘাত করা হয়েছে।’

 

এশার নামাজ চলাকালীনও শব্দ নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি বলে দাবি করেন সারোয়ার তুষার। তিনি বলেন, কতিপয় পুলিশ সদস্যের এমন বাড়াবাড়িতে পুলিশ সুপার নিজেও অত্যন্ত বিব্রত হয়েছেন।

 

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘এই হলো মূল ঘটনা। অথচ মিডিয়ায় আসল “শিল্প-সংস্কৃতির ওপর আঘাত”, “মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের কর্তৃক কনসার্ট বন্ধ” ইত্যাদি।’

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ঘটনাটির উপস্থাপনা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। সারোয়ার তুষার বলেন, ‘কান নিয়েছে চিলে’ অ্যাক্টিভিজম ও মিডিয়াবাজি থেকে নিস্তার দরকার।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই দেশে থাকি। মুখ দেখাদেখি বন্ধ করে বিদ্বেষমূলক অ্যাক্টিভিজম হবে, রাজনীতি হবে না। প্রয়োজন আন্তরিক সংলাপ। আরও প্রয়োজন ক্রিটিক্যাল ইন্টিমেসি (critical intimacy)।’

 

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সংসদ অধিবেশনে হাসনাত আবদুল্লাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি সম্পূরক প্রশ্ন তুলতে গিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংস্কৃতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তার ওই বক্তব্যের প্রতিবাদে গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ বিক্ষোভ মিছিল করে এবং শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিতব্য এনসিপির সাংগঠনিক কর্মশালা প্রতিহতের হুঁশিয়ারি প্রদান করে। এরপরই বিষয়টি নিয়ে বিশদ ব্যাখ্যা দিয়ে নিজের বক্তব্য স্পষ্ট করলেন এই সংসদ সদস্য।