
কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন হত্যা মামলার তদন্তে আটক রিয়াজ উদ্দিন রাজুকে কুমিল্লা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করেছে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে হস্তান্তর করা হয়। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার লালোয়া রিসোর্টের সামনে অভিযান চালিয়ে রাজুকে আটক করে পুলিশ। তিনি বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বড়ঘোনা এলাকার মনির আহমেদের ছেলে।
কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী বলেন, কক্সবাজারের কলাতলি থেকে রাজুকে আটক করা হয়েছে। কক্সবাজার সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাগর তাকে আটক করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তাজমিন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্তের অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়। বিভিন্ন তথ্য যাচাই ও অনুসন্ধানের একপর্যায়ে রাজুর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসে। পরে তার অবস্থান শনাক্ত করে কক্সবাজারে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তাজমিনের সঙ্গে রাজুর পরিচয় ও সম্পর্কের সময়কাল ছিল প্রায় ১৮ দিন। ওই পরিচয়ের সূত্র ধরে রাজু তাজমিনকে কক্সবাজারে নিয়ে যান বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
তবে তাজমিনের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রাজুর সম্পৃক্ততা, ঘটনার পেছনের কারণ এবং হত্যার প্রকৃত রহস্য এখনো তদন্তাধীন। এসব বিষয়ে তার ভূমিকা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ৮ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) ভোরে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে নিহতের পরিবার, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।























