• আজ ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লার দেবিদ্বারে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে হুমকিতে ফসলি জমি , প্রশাসন নিরব

| নিউজ রুম এডিটর ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ১১, ২০২৩ অপরাধ-দুর্নীতি

কুমিল্লার দেবিদ্বারে খাল ও কৃষি জমির মধ্যে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে।এর ফলে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা ধসে যাচ্ছে এবং হুমকির মুখে পড়ছে ফসলি জমি ও পরিবেশ।স্থানীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এসব ড্রেজার দিয়ে গ্রামাঞ্চলের খাল, বিল,পুকুর ও কৃষি জমি থেকে যত্রতত্র ভূগর্ভস্থ মাটি উত্তোলন করায় আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী।বছরের পর বছর ধরে ড্রেজার মালিকরা এ অবৈধ কাজটি করলেও প্রশাসনের কোনো চোখে পরার মত ভূমিকা নেই।জানা গেছে, ড্রেজার দিয়ে উত্তোলনকৃত বালুর বেশিরভাগই স্থানীয় ঠিকাদাররা তাদের নির্মাণ কাজে ব্যবহার করে।সড়ক ও সরকারি স্থাপনার মেঝে ভরাট করা হচ্ছে এ বালু দিয়ে।

ভূগর্ভস্থ এ বালুতে কাদামাটির পরিমাণ বেশি থাকে।ফলে মাটি মিশ্রিত এ বালু দিয়ে তৈরি সড়ক ও স্থাপনা টেকসই না হওয়ায় প্রতিবছর সরকারের উন্নয়ন কাজের কোটি কোটি টাকা গচ্চা যাচ্ছে।তাছাড়া কম খরচে ও সহজ পদ্ধতিতে বালু পাওয়ায় ঠিকাদারদের পাশাপাশি বসতবাড়ি নির্মাণেও অনেকে পরিবেশ বিধ্বংসী এই ড্রেজার ব্যবহার করছে।এলাকাবাসী বিভিন্ন সময় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি জানালেও তা কোনো কাজে আসছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এভাবে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কাজ চলমান রয়েছে।অবৈধ মেশিনগুলোর মালিকরা ঘুরে ঘুরে গ্রামের পরিত্যক্ত খাল, ডোবা,পুকুর ও কৃষি জমি থেকে বালু উত্তোলন করছে।

কুমিল্লা – সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের মধ্যবর্তী এলাকায় সরকারি সড়কের পাশের একটি কৃষি জমিতে অবৈধ ড্রেজার বসিয়েছে মোঃ বিল্লাল মেম্বার নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি।কৃষি জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে হুমকিতে পড়েছে সরকারি সড়ক।১৪ নং সুলতানপর ইউনিয়েনর গজারিয়া বাজার সংলগ্ন কৃষি জমি নষ্ট করে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন ড্রেজার মালিক মোঃ আলিম। তিনি জানান, স্থানীয় মিজান খান নামে এক ব্যক্তি তার জমি থেকে বালু উত্তোলনের জন্য এ ড্রেজার বসিয়েছেন।এছাড়াও ধামতী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড চৌধূরী বাড়ীর এলাকায় কৃষি জমি থেকে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন মোঃ কামাল ও সালাউদ্দিন নামের দুই ড্রেজার মালিক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৩০ -৪০ টি ড্রেজার রয়েছে।ডাক পড়লেই মেশিনপত্র নিয়ে গ্রামের আনাচে কানাছে ছুঁটে যাচ্ছে ড্রেজার মালিক-শ্রমিকরা।সম্প্রতি এসব ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও বতসবাড়ি ডেবে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে কয়েকটি অভিযোগ পাওয়া গেছে।মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিটিউটের কুমিল্লা কার্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা – মোঃ আরমান জানান,মাটির নিচ থেকে কাদা বালু উত্তোলন করা হলে ভূমির উপরিভাগ ঠিক থাকলেও তলদেশের ব্যাপক জায়গা নিয়ে ফাঁকা হয়ে যায়।এভাবে প্রতিনিয়ত চলতে থাকলে বড় বড় স্থাপনা, রাস্তাঘাট সহ ব্যাপক এলাকা ডেবে যেতে পারে।

এটা পরিবেশের জন্য বড় ধরনের হুমকি।এছাড়াও কৃষি জমি থেকে বালু উত্তোলন করা হলে কৃষি জমিগুলো অকৃষিতে রূপান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।এ বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা ভূমি সহকারী কমিশনার মোসাঃ নাছরিন সুলতানার নিকট লিখিত ও মৌখিক ভাবে অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পায়নি বলে অভিযোগ এলাকার ভূক্তভোগীদের।দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নীগার সুলতানা জানান,এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে আইনি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।