• আজ ১লা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সিলেটে বন্যার অবনতি, সাড়ে ছয় লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দী

| নিউজ রুম এডিটর ১:৩৭ অপরাহ্ণ | জুন ১৯, ২০২৪ লিড নিউজ, সারাদেশ, সিলেট

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটে চলমান দ্বিতীয় দফা বন্যায় মহানগর ও জেলাজুড়ে ছয় লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৭ জন মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। এর মধ্যে সিলেট মহানগরে ২১ টি ওয়ার্ডের প্রায় অর্ধ লক্ষ মানুষ বন্যা কবলিত।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, বুধবার সকালে সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৯৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যেখানে মঙ্গলবার ছিলো বিপৎসীমার ১৩৩ সেন্টিমিটার উপরে।

একই নদীর সিলেট পয়েন্টে পানি বইছে বিপৎসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে। কুশিয়ারা নদীর আমলশীদ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বইছে বিপৎসীমার ৯২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে। এছাড়া সারি নদীর সারিঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ১২.১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত ২৯ মে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিলো।

৮ জুনের পর থেকে বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তারপর সোমবার থেকে আবারও টানা বৃষ্টিতে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করে।

সিলেট জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এরই মধ্যে জেলার সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা, গোয়াইনঘাট, কোম্পানিগঞ্জ, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, বিশ্বনাথ, বিয়ানিবাজার, জৈন্তাপুর, ফেঞ্চুগঞ্জ, কোম্পানিগঞ্জ, বালাগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার এক হাজার ৩২৩ টি গ্রাম ও এলাকা প্লাবিত।

সিলেট জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ৬২৭ টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এর মধ্যে মহানগরে ৮০টি যাতে আশ্রয় নিয়েছেন ১৭ হাজার ২৮৫ জন।

মহানগরের সব নিচু এলাকা পানির নিচে। বিশেষ করে শাহজালাল উপশহর প্রায় পুরোটাই পানির নিচে। অনেকের বাসার নিচতলায় গলা পর্যন্ত পানি। এছাড়া যতরপুর, মেন্দিবাগ, শিবগঞ্জ, রায়নগর, সোবহানীঘাট, কালিঘাট, কামালগড়, মাছিমপুর, তালতলা, জামতলা, কাজিরবাজার, মদিনা মার্কেট, আখালিয়া ও মেজরটিলাসহ মহানগরের অধিকাংশ এলাকা বন্যা কবলিত।

সিলেট উপশহরের এক বাসিন্দা বলেন, ঘরের মধ্যে পানি ঢুকে গেছে। চলাচলে কষ্ট হচ্ছে। ঈদের পর আজ অফিস খুললো। অফিসে যাতায়াতে সমস্যা। বাজারে যাওয়া যাচ্ছে না। সব জায়গায় পানি।

এ দিকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মানুষ যেন ভোগান্তি না পড়েন সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে পাশাপাশি শুকনা ও রান্না করা খাবার আশ্রয়কেন্দ্রে দেয়া হচ্ছে। আছে প্রয়োজনীয় ওষুধও।

মেয়র জানান যতদিন বন্যার পানি না কমছে ততদিন সিসিকের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ করবো। এই দুর্যোগ থেকে সবাই মিলে সিলেটকে রক্ষা করবো। সিলেটবাসী কেউ ভালো নেই। আমরা অত্যন্ত মর্মাহত। কাউন্সিলররা সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করছেন। মানুষের যাতে দুর্ভোগ কম হয় সেজন্য আমরা কাজ করছি। যতদিন পর্যন্ত পানি না নামবে আমরা কাজ চালিয়ে যাবো।

এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, আগামী দুই দিন সিলেট, নেত্রকোণা ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হবে। তবে অবস্থা স্থিতিশীল থাকবে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে সেনা মোতায়েন

এদিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, সিলেট সিটি করপোরেশনের অনুরোধে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের নির্দেশনায় ‘ইন এইড টু দি সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় সিলেটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণ সুরমা বড়ইকান্দি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র রক্ষায় মঙ্গলবার সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

এই বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রটি থেকে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন, সিলেট শহরের পার্শ্ববর্তী বরইকান্দি, কামালবাজার, মাসুকগঞ্জ, বিসিক, লালাবাজার, শিববাড়ী ও কদমতলীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এসকল এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে সেনাসদস্যরা কাজ করে যাচ্ছে।

যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় ‘ইন এইড টু দি সিভিল’ পাওয়ারের আওতায় সেনাবাহিনী বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দেয়।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-৩ নির্বাহী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র সরকার সাংবাদিকদের বলেন, উপকেন্দ্রটি ঝুঁকিতে রয়েছে। পানি ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখনও ওঠেনি। আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনী সাহায্য করবে।