
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজের অপরাধ স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। অন্যদিকে, একই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
রোববার (১৪ জুন) এ দুই আসামির জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট বেঞ্চ।
আপিলে আসামি সোহেল বলেন, ‘পারিবারিক অশান্তি, মাদকাসক্ত, আর্থিক অভাবের কারণে রামিসার হত্যাকাণ্ড অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটেছে। মাদকাসক্তির কারণে কীভাবে কী ঘটে গেছে তাও বুঝতে পারিনি। আমার একমাত্র ছেলের পড়াশোনা খরচ ও পরিবারের ভরণপোষণ করার মতো কেউ নেই। আমি ভুল করেছি। আমি ক্ষমা চাই।’
তবে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি স্বপ্না বলেন, ‘রামিসা হত্যাকাণ্ডের সংশ্লিষ্ট ঘটনার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নই। আমাকে অন্যায়ভাবে জড়ানো হয়েছে।’
কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) হাইকোর্টে জেল আপিল করেন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুন।
এর আগে, গত ৭ জুন ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। আদালত প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০- এর ধারা ৯(২) মোতাবেক মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন এবং তাকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। একইভাবে অভিযুক্ত মোছা. স্বপ্নাকেও মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয় এবং তাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। রায় ঘোষণার পর তাদের কারাগারের কনডেম সেলে স্থানান্তর করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে একটি ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে আট বছরের এ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরে পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। প্রধান আসামি ঘটনার পর পালিয়ে গেলেও প্রযুক্তিগত সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর দ্রুত বিচার কার্যক্রম শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন।
পি নিউজ রামিসা হত্যা






















