
ভারতের চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতক পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে রাজধানী নয়াদিল্লিতে চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে আন্দোলনকারী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বিতীয় দফার বৈঠক শুরু হয়েছে, অন্যদিকে এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফলে আন্দোলন, রাজনীতি ও প্রশাসনিক তৎপরতা মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে যন্তর মন্তর থেকে আন্দোলনকারী সংগঠনের প্রতিনিধিরা কনস্টিটিউশন ক্লাবের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা। প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলা অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে এটি কেন্দ্র ও আন্দোলনকারীদের দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
বৈঠকের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাসভবনে জগৎ প্রকাশ নাড্ডা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় সরকারের অবস্থান ও পরবর্তী কৌশল নির্ধারণেই এই বৈঠক ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে আলোচনা শুরুর আগেই আন্দোলনকারী সংগঠন জানিয়ে দিয়েছে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি থেকে তারা একচুলও সরে আসছে না।
তাদের দাবি, পরীক্ষা ব্যবস্থায় আস্থা ফিরিয়ে আনতে দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সে কারণে আজকের বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান বেরিয়ে আসবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই গেছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে বলেন, দেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রীর ওপর বিশ্বাস রাখে এবং সেই বিশ্বাস বজায় রাখা উচিত।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তা দেশের সবার স্বার্থে এবং বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ রক্ষার লক্ষ্যেই নেওয়া হচ্ছে। যুবসমাজের স্বার্থে সরকারের পদক্ষেপের ওপর দেশের মানুষের পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শুধু প্রশ্নফাঁস ইস্যু নয়, বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও কড়া বার্তা দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশবিরোধী শক্তিকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে উৎখাত করা হবে এবং আগামী দিনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তার দাবি, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে এবং সামনে আরও বড় পদক্ষেপ দেখা যাবে।
একই সঙ্গে তিনি দেশের জাতীয় দিবস উদযাপন নিয়েও মন্তব্য করেন। তার মতে, প্রজাতন্ত্র দিবস ও স্বাধীনতা দিবস দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলকভাবে পালন করা উচিত। ছাত্রাবাসগুলোর কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও প্রশাসনের কাছে তথ্য রয়েছে বলে দাবি করে তিনি সতর্কবার্তা দেন যে, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের এই ভূখণ্ডে কোনো ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।
প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলন ইতোমধ্যেই জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। অন্যদিকে কেন্দ্রের দাবি, পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং আইনগত পদক্ষেপও জোরদার করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আজকের বৈঠক সফল হলে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনের পথ খুলে যেতে পারে। তবে আন্দোলনকারীদের অনড় অবস্থান এবং সরকারের অবস্থানের মধ্যে এখনও যথেষ্ট দূরত্ব রয়েছে। ফলে আলোচনার ফলাফলই নির্ধারণ করবে আগামী দিনে আন্দোলনের গতি কোন দিকে মোড় নেবে।
প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ এখনো কাটেনি। আন্দোলনকারীরা বলছেন, শুধু আশ্বাস নয়, দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের রূপরেখা না পাওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। অন্যদিকে সরকার আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান চাইলেও আন্দোলনকারীদের কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে এখনও অনিশ্চিত রেখেছে।


















