• আজ ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওয়ার্কলোড নয়, আতঙ্কে নাহিদ রানাকে টি-টোয়েন্টি খেলানো: পরিকল্পনায় বড় প্রশ্ন

| নিউজ রুম এডিটর ১০:৪২ অপরাহ্ণ | ২৫/০৭/২০২৬ খেলা

একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত শুধু সিরিজের কৌশলকেই হোঁচট দেয়নি, অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে দলের সবচেয়ে বড় অস্ত্রটিকেও হারিয়েছে। চোটে পড়ে পুরো সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন পেসারের মূল অস্ত্র নাহিদ রানা। একইভাবে প্রথম টেস্টে নেই দলের অন্যতম প্রধান ব্যাটার লিটন কুমার দাস; দ্বিতীয় টেস্টে তার খেলাটা পুনর্বাসন ও ফিটনেসের ওপর নির্ভর করছে। অনুরূপ অবস্থা পেসার শরিফুল ইসলাম সম্পর্কেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার ব্যাপারে বারবার উচ্চারণ ছিল যে, অতিরিক্ত ব্যবহারে একজন পেসারকে নষ্ট করা হয়েছে। মাশরাফির পর যেসব পেসার আসছেন, তাদের নিয়েও একই উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, কি কারণে টিম ম্যানেজমেন্ট পর্যাপ্ত সতর্কতা অবলম্বন করেনি?

বিশ্ব ক্রিকেটে নাহিদ রানার দ্রুত উত্থান দেখে বহু বিশ্লেষকই সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, ‘রত্নের যত্ন নিও’। কিন্তু সেই অনুরোধগুলি কি দলের নীতি-নির্ধারকের কাছে পৌঁছেছে কি না, তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজের আগে ২৩ বছর বয়সী নাহিদ রানাকে ঘিরে নেয়া সিদ্ধান্তগুলো এখন নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—কেন তাকে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও খেলানো হলো? পরবর্তী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দুই বছর দূরে থাকলে কি তা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ত্যাগ করা হলো? নাকি সাময়িক সাফল্যের জন্যই খেলা হয়ে থাকে?

জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশ এক টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলেছে। টেস্টে না খেললেও ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে নাহিদ রানা ছিলেন, পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেও নেমে খেলেন; দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই মূলত চোট পান তিনি।

ওয়ানডে বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে এখন প্রায় সব সিরিজ গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে—উল্লেখ্য সবাই, খেলোয়াড় থেকে কর্মকর্তারা পর্যন্ত এটাই বলছেন। তবে এই যুক্তি তুলে ধরেও প্রশ্ন রয়ে যায়: ওয়ানডে বিশ্বকাপকে অগ্রাধিকার দেয়ার কথাই বললেও কেন দলের গুরুত্বপূর্ণ পেসারকে টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলানো হয়েছিল? প্রতিপক্ষকে বড় ভাবায় কী পরিকল্পনা বদলানো হয়েছিল, নাকি তাৎক্ষণিক ফলকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল?

টিম ম্যানেজমেন্টের এক সদস্য এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন যে জিম্বাবুয়ে সফরে সিরিজ হারার আতঙ্কে নাহিদকে খেলানো হয়েছিল। তিনি বলেছেন, ‘নাহিদ রানা তো টেস্ট খেলে নাই, তাই এটা ওয়ার্কলোড না। ওয়ার্কলোড নিয়ে কোনো প্রবলেম ছিল না আমাদের সাথে।’ প্রশ্নে কেন টি-টোয়েন্টি খেলানো হলো—টেস্ট না খেলা অবস্থায়ও—তিনি বলেন, ‘যেহেতু নাহিদ রানা টেস্ট খেলে নাই এবং শেষ ওয়ানডেতেও বিশ্রামে ছিল। গেম টাইমের (ম্যাচ অনুশীলন) জন্য না আসলে, পরিস্থিতিটাই ওরকম ছিল আমরা হেরে যাচ্ছিলাম তো…।’

অর্থাৎ, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থেকে নয়, সিরিজ হারার আতঙ্ক থেকেই তাকে নামানো হয়েছিল—টিম ম্যানেজমেন্টের নিজস্ব কথাই এমন ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিমগুলো পরিকল্পনার ওপর দাঁড়ায়, আতঙ্কের ওপর নয়। জিম্বাবুয়ে সফরের ব্যর্থতার ক্ষত ছেঁটে ফেলতে গিয়েই বাংলাদেশ এক গুরুত্বপূর্ণ ফাস্ট বোলারকে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে হারিয়েছে।

টিম ম্যানেজমেন্টের ওই স্বীকারোক্তি বাংলাদেশ ক্রিকেটে যে দূরদর্শিতার অভাব এবং প্যানিক ড্রিভেন সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তা স্পষ্টভাবেই উন্মোচিত করে। অন্য দলেরা তাদের ফাস্ট বোলারদের গুরুত্বকে বিনিয়োগ হিসেবে দেখে ও প্রয়োজন না হলে খেলায় নামায় না—কারণ একজন ফাস্ট বোলারের মূল্য সাধারণ দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজের চেয়ে অনেক বেশি। বাংলাদেশ কি সেই শিক্ষা নিতে পারবে না—এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন; না হলে ভবিষ্যতে আরও অনেক প্রতিভা একইভাবে হারানোর ঝুঁকি টিকে থাকবে।