• আজ ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যাংক এজেন্টকে তুলে নিয়ে ২০ লাখ টাকা দাবি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাবের বিরুদ্ধে মামলা

| Peoples News ৬:৪৪ অপরাহ্ণ | ০৬/০৩/২০২৬ সারাদেশ

স্টাফ রিপোর্ট: ডাচ বাংলা ব্যাংকের এজেন্টকে তুলে নিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আফতাবসহ তিনজনের নামে থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে মামলাটি দায়ের করেন দেলোয়ার হোসেন।

আসামিরা হলেন- তাহিরপুরের বাদাঘাট ইউনিয়নের সোহালা গ্রামের প্রয়াত ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীনের ছেলে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যন ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আফতাব উদ্দিন, সোনাপুর গ্রামের কালা মিয়ার ছেলে মিলন মিয়া, নুরপুর গ্রামের সুজাফর মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে উপজেলার নুরপুর গ্রাম থেকে বাদাঘাট বাজারে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ডাচ বাংলা এজেন্ট ব্যাংক শাখায় যাওয়ার পথে দেলোয়ারকে রাস্তা থেকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তুলে নিয়ে যান আফতাব ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন। রাতে বাদাঘাট বাজারে আফতাবের নিজস্ব বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে টানা তিন ঘণ্টা আটকে রেখে ধারালো কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে মাথায় ও ডান হাতে জখম করে হত্যাচেষ্টা চালানো হয়। এরপর পাকা ফ্লোরে ফেলে আফতাব ও তার দুই সহযোগী মিলে দফায় দফায় কিল-ঘুসি, লাথি মারতে মারতে দাবিকৃত টাকা আদায়ের চেষ্টা চালানো হয়।

খবর পেয়ে উপজেলার উত্তর বড়দল ইউপি চেয়ারম্যন মাসুক, বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম সিকদার, বাজারের ব্যবসায়ীদের নিয়ে আহত দেলোয়ারকে উদ্ধার করেন। রাতেই তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার সকালে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

দেলোয়ার হোসেন বলেন, আফতাব কয়েক দফায় তার এক ভাগ্নের মাধ্যমে আমার নিকট থেকে ৬০ হাজার টাকা হাওলাত নিয়ে পরিশোধ করেননি। এরপর বিভিন্ন অসুবিধা দেখিয়ে আরও ৮ লাখ টাকা ব্যবসা করার জন্য হাওলাত চেয়ে বারবার চাপ সৃষ্টি করেন। এতে আমি রাজি হইনি।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে রাস্তা থেকে আমাকে আফতাব ও তার লোকজন ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তুলে নিয়ে গিয়ে তার বিল্ডিংয়ের একটি কক্ষে টানা তিন ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন করেন।

জানতে চাইলে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আফতাব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, উপজেলার নুরপুর গ্রামের এক ব্যক্তির সঙ্গে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের মীমাংসার জন্য দেলোয়ারকে আমার অফিসে খবর দিয়ে নিয়ে যাই।

মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে আফতাব বলেন, দেলোয়ার নিজেই নাটক সাজিয়ে আমার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেছেন।

তাহিরপুর থানার ওসি সুশংকর পাল বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়ে থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে রয়েছে। আফতাব ও তার একাধিক সহযোগীর বিরুদ্ধে নানা অপরাধমূলকাণ্ডে জড়িত থাকায় একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন।