
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধ করা শুধু সরকারের নয়, বরং পুরো জাতির দায়িত্ব।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এনডিএ সংসদীয় দলের ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে এ তথ্য জানান।
রিজিজুর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী একটি নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি এনডিএ জোটের শরিকদের আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং বিরোধী দলগুলোকেও সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের ভবিষ্যৎ ও তরুণ প্রজন্মের কল্যাণে সব সংসদ সদস্যের যৌথ দায়িত্ব রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন সোমবার দিল্লিতে সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভে নামা হাজারো জেন-জি আন্দোলনকারীকে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতামূলক বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়ম, বিশেষ করে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছেন।
ভারতের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষাগুলোর একটি নিটে প্রতি বছর ২০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রশ্নপত্র আগেই ফাঁস হওয়ার অভিযোগ ওঠায় গত মে মাসের পরীক্ষা বাতিল করা হয়। পরে গত মাসের শেষ দিকে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়।
নিট বিতর্কের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের (সিবিএসই) প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষার অনলাইন মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, ভুল নম্বর দেওয়া হয়েছে অথবা অন্য শিক্ষার্থীর নামে ফল প্রকাশ করা হয়েছে।
কিরেন রিজিজু জানান, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর প্রকাশের পর সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য বিলম্ব না করে পুনরায় পরীক্ষা আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ২১ দিনের অনশনে থাকা সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে গত শনিবার জোরপূর্বক হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সোমবার তিনি ঘোষণা দেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যেভাবে কঠোর আচরণ করা হচ্ছে, তার প্রতিবাদে হাসপাতালে থেকেই তিনি আবার অনশন শুরু করবেন।
তবে সংসদের চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর আগে দেওয়া জনসম্মুখের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।



















