
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে হাজারো তরুণের বিক্ষোভ নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সরকারবিরোধী এই আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থী ও তরুণরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা পিছু হটবেন না। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার সরকারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে এক নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে, তরুণদের এই ক্ষোভই এখন মোদিকে চাপে ফেলেছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার দৃশ্যত কঠোর দমননীতির পথ বেছে নিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যারে প্রকাশিত ওই মতামত নিবন্ধে বলা হয়েছে, তরুণদের ক্ষোভের বিস্ফোরণের মুখে নরেন্দ্র মোদির হাতে কোনও জবাব ছিল না। তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখানোর মতো মানসিক প্রস্তুতিও ছিল না, ছিল না ক্ষোভের গভীরতা বোঝার সক্ষমতাও।
রাজনৈতিকভাবে নরেন্দ্র মোদির সরকার এখন নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে। মিত্রদের দৃঢ় সমর্থন রয়েছে, আঞ্চলিক দলগুলোর ভাঙন সামাল দিয়ে অবস্থান আরও শক্ত করেছে। মোদি এখন তার সবচেয়ে পছন্দের আইন— অর্থাৎ নির্বাচনী আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) আইন পাস করানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
একইসঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সফর করছেন, আন্তর্জাতিক নেতাদের সঙ্গে ছবিও তুলছেন মোদি। দেশের গণমাধ্যম (এবং আরও অনেক প্রতিষ্ঠান) তার নিয়ন্ত্রণে থাকায় সরকারবিরোধী কোনও সমালোচনা খুব একটা প্রকাশও পায় না। নির্বাচন কমিশনও এমনভাবে কাজ করছে, যাতে তার বিরোধীরা ভোট দেয়ার সুযোগ না পায়।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, বিরোধী শিবির ছন্নছাড়া অবস্থায় রয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষমতায় থাকার জন্য এটি বেশ স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতি। তাহলে প্রশ্ন হলো, নরেন্দ্র মোদি এত ভয় পাচ্ছেন কেন?
হাজার হাজার তরুণ যখন দিল্লির যন্তর মন্তরে জড়ো হয়ে সংসদ ভবনের দিকে পদযাত্রার ঘোষণা দিলেন, তখন সরকার এত কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাল কেন? কেন বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্মম লাঠিচার্জ করা হলো? কেন অনশনরত সোনম ওয়াংচুককে জোর করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো? আর পরে রাহুল গান্ধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগ দিলে তাকেও কেন মারধর করা হলো?















