• আজ ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্দোলনের শেষে বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ককরোচ নেতা অভিজিৎ দীপক

| নিউজ রুম এডিটর ৫:৫১ অপরাহ্ণ | ২৮/০৭/২০২৬ জাতীয় রাজনীতি

রাজপথে আন্দোলনের রেশ কাটতে না কাটতেই দিল্লিতে ককরোচ নেতার জন্য শুরু হয়েছে নতুন এক অধ্যায়। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিটের প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ফলে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক পুরো ভারতের যুব আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠেছেন। সেই আন্দোলন স্থগিত হতেই ৩০ বছর বয়সী এই তরুণকে নিয়ে বিয়ের প্রস্তাবের ধুম পড়ে যায়। তার মা-বাবা ছেলেকে বিয়ের পিঁড়িতে বসানোর সিদ্ধান্ত নিতে আগ্রহী।

অভিজিতের পরিবার জানিয়েছে, চলতি বছর ডিসেম্বরে অথবা আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে ছেলেকে বিয়ে দিতে চান তার মা অনিতা দীপক। তবে চূড়ান্ত দিনক্ষণ নির্ধারণের দায়িত্ব সম্পূর্ণরূপে ছেলের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অনিতা দীপক বলেন, নিট আন্দোলনের শুরুতে অভিজিতের জন্য নানা জায়গা থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসছিল, কিন্তু আন্দোলন শেষে সেই প্রস্তাবের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে।

ককরোচ জনতার নেতা অভিজিত ও তার পরিবার ফুটবল মাঠে অবস্থানকালে পুলিশ বাবার ফোনে বিয়ের প্রসঙ্গে উল্লেখ করতেই তিনি হাসিমুখে প্রতিক্রিয়া জানান। মা-বাবা আশা করছেন, ছেলে বাড়ি ফিরলেই বিয়ের কাজ সম্পন্ন হবে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর আন্দোলন স্থগিত হলে অভিজিতের দ্রুত বাড়ি ফেরার সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু তিনি টাইফয়েডে আক্রান্তের কারণে আটকে পড়েছেন। তাকে সুস্থ হতে মাত্র চার-পাঁচ দিন লাগবে বলে জানান স্বজনরা।

অভিজিতের রাজনৈতিক যাত্রা অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টি প্রতিষ্ঠার পর তার পরিবার বড় একটি হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। বোস্টনে থেকে অভিজিতকে ফোন করে জানানো হয় যে তার মা-বাবাকে নিশানা করা হবে। এই বিপদের কারণে অভিজিত বাবাকে নিরাপত্তার জন্য অন্য কোথাও সরে যেতে পরামর্শ দেন। পরে তারা দুই সপ্তাহ আত্মগোপনে ছিলেন। জুনের প্রথম সপ্তাহে অভিজিত দেশে ফিরে আসলে স্বজনরা তাকে আনতে যান। বর্তমানে তারা ছত্রপতি সম্ভাজী নগরের ওয়ালুজ এলাকায় বসবাস করছেন।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, রাজনৈতিক দলের পরিকল্পনা পরিবারের কাছে গোপন ছিল। সাক্ষাৎকার প্রচারিত হওয়ার পর খবর দেখে তার পরিবার প্রথম সবকিছু জানতে পারে। অভিজিৎ দীপক এখন দেশের লাখ লাখ তরুণের প্রতিনিধি হয়ে কথা বলছেন। শৈশবে তিনি ছিলেন লাজুক এবং চুপচাপ, কিন্তু এখন তিনটি ভাষায় টিভিতে বক্তৃতা দিতে সক্ষম।

অভিজিত করোনা মহামারীর সময় গৃহহীন মানুষদের আশ্রয় দিতে ও সহায়তা করেছে। বাড়ির বাইরের পার্কিং স্পেস ছেড়ে ১৫টি আদিবাসী পরিবারকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে স্বজনদের কাছে তার খ্যাতি বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, অসহায় মানুষের সেবা করাটা জীবনের মানবিক দায়িত্ব। অভিজিত পড়ালেখায় মেধাবী ছিলেন এবং স্কুলে উত্তেজিত বিষয়গুলোতে অংশ নিতেন না। তবে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হওয়ার পর তিনি নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেননি।

দিল্লির রাজপথে শারীরিক হামলায় অভিজিতের মা কেঁদে ফেলেছিলেন, তবে তিনি তাকে ফোনে শান্ত করে জানান, “মা, আমি এখন আর শুধু তোমাদের সন্তান নই, আমি তো এখন পুরো দেশের গণসম্পত্তি হয়ে গেছি!”