• আজ ৮ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আজ ভয়াবহ বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ,এ্যাস্ট্রোলোজার’র দৃষ্টিতে পরবর্তী বিশ্ব

| নিউজ রুম এডিটর ১২:৪১ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ১৪, ২০২৩ জাতীয়

জ্যোতিষ এস সিকদার : আল্লাহ্ সুবহানাহুয়া তায়ালার সুস্পষ্ট নিদর্শন সমূহের অন্যতম হচ্ছে মহাজাগতিক এই গ্রহণ, সূর্যগ্রহণ চন্দ্রগ্রহণ যেকোনো গ্রহনের ফলে জীববৈচিত্র্যের উপরে ব্যাপক প্রভাব পরে। ইসলাম ধর্মের পবিত্র কুরআন ও হাদীসে সূর্যগ্রহণ চন্দ্রগ্রহণের গুরুত্বের কথা উল্লেখ রয়েছে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বেদ ও পুরাণে এমন মহাজাগতিক ঘটনার কথা(শ্লক) উল্লেখ রয়েছে, বৈদিক শাস্ত্র এবং আধুনিক জ্যোতিষ বিজ্ঞান মতে গ্রহণের ফলে বিভিন্ন রকমের শুভাশুভ যোগের সূত্রপাত হয়ে থাকে যার প্রভাবে বিবর্তিত হতে পারে প্রাকৃতিক রূপরেখা- কখনো কখনো বদলে যায় সভ্যতা! তাই বিভিন্ন ধর্মের পণ্ডিতগণ সহ জ্যোতির্বিদ গণ মহাজাগতিক যে কোন গ্রহণকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে থাকেন।

আসছে আগামী ২৯ শে আশ্বিন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ , ১৪ই অক্টোবর ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে রবিউল আউয়াল ১৪৪৫ হিজরী- রোজ শনিবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র মহালয়ার এইদিন বিগত ১৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সূর্য গ্রহণ হবে যা বিগত বিংশ শতাব্দীতেও ঘটেনি এবং একবিংশ শতাব্দীতেও ঘটবে না, এটি ২০২৩ সালের দ্বিতীয় এবং সর্বশেষ সূর্যগ্রহণ এই গ্রহণটির নাম হচ্ছে (Ring of Fire) বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ অর্থাৎ গ্রহণ চলাকালীন সময়ে চাঁদ এবং সূর্য একই সরল-রেখায় চলে আসবে তখন সূর্যকে দেখতে হাতের আংটির ন্যায় আগুনের আংটির মত দেখা যাবে, এটি অত্যন্ত বিরল একটি মহাজাগতিক ঘটনা।

বিগত ২০ এপ্রিল ২০২৩ হয়েছিল এ বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ,আবারও সেই মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে পৃথিবীবাসী,উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে জ্যোতির্বিদ/জ্যোতিষ গবেষকদের মধ্যে বিশেষ কৌতূহল লক্ষ্য করা যায়। এই গ্রহণ টির স্থায়িত্ব কাল হবে টানা সাড়ে পাঁচ ঘন্টা। উক্ত গ্রহণটি শুরু হওয়ার ১২ ঘন্টা আগে শুরু হবে এর সুতোক কাল। বর্তমানে সূর্য কন্যা রাশিতে অবস্থান করছে এবং অমাবস্যা তিথিতে এই কন্যা রাশিতেই সূর্য গ্রহণ সংঘটিত হবে।

বছরের দ্বিতীয় অর্থাৎ শেষ সূর্যগ্রহণ টি উত্তর আমেরিকা মধ্য আমেরিকা দক্ষিণ আমেরিকা উত্তর আফ্রিকার পশ্চিম অঞ্চল এবং আটলান্টিক মহাসাগর প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকা এবং হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ এই সমস্ত অঞ্চলে গ্রহণটি দৃশ্যমান হবে।

উল্লেখ্য যে ভারত বাংলাদেশ অত্রাঞ্চলে দৃশ্যমান হবে না এছাড়াও যখন এই গ্রহণ (মহাজাগতিক ঘটনা) সংঘটিত হবে তখন এই এলাকায় থাকবে রাত, তাই বাংলাদেশ ও ভারতে এই সূর্য-গ্রহণ টি দৃশ্যমান হবে না। গ্রহণ শুরু হবে বাংলাদেশ রাত ৯:৩ মিঃ শেষ হবে রাত ২:৫৫ মিঃ এবং ভারতীয় সময় রাত ৮:৩৩ মি: আর শেষ হবে ১৫ অক্টোবর রাত ২:২৫ মিঃ।

জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে বিরল এই মহাজাগতিক ঘটনায় পৃথিবীতে তৃতীয় সহস্রাব্দের তৃতীয় দশকের পুরোটাই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় কাল হিসেবে বিবেচিত, এ সময়ের মধ্যে মনুষ্যসৃষ্ট মহামারী তথা (রাসায়নিক অস্ত্র) ব্যবহারের ফলে নতুন নতুন ফ্লু রোগ ছড়িয়ে পড়বে, মানুষ রোগের শোকে কষ্ট পাবে দেখা দেবে ভয়াবহ সিরিজ ভূমিকম্প- ভূমিধস সুনামি জলোচ্ছ্বাস দাবানল অতি বৃষ্টি অনাবৃষ্টি তুষারপাত সাইক্লোন। ভূমিকম্প ও জলোচ্ছ্বাসে মধ্যপ্রাচ্যে ও দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কিছু দেশ সহ বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরান এবং শ্রীলংকা ইন্দোনেশিয়া পাকিস্তান ভারত বাংলাদেশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে! বিশ্বের সুপার পাওয়ার রাষ্ট্রগুলো সর্বত্র পরস্পরের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে!বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে তুরস্ক কাতার অগ্রণী ভূমিকা পালন করা সত্বেও তা ফলপ্রসু হবে না। আমেরিকা ইজরায়েল ও তাদের মিত্রশক্তি রাষ্ট্রগুলো মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপকভাবে ধরাশায়ী হবে, আগামী সাত বৎসর অর্থাৎ ২০৩০ সাল পর্যন্ত যুদ্ধ বিগ্রহের কারনে পৃথিবী অশান্ত থাকবে, রাশিয়া ইউরোপ আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক atomic bomb বিস্ফোরণ (পরমাণু বোমা ব্যবহার হবে) যা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হিসেবে পুরোপুরিভাবে রূপ নেবে।

পৃথিবীর বহু দেশের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ/ শাসক গোষ্ঠীর ক্ষমতার পালাবদল হবে,পৃথিবীর মানচিত্রে আরো বেশ কিছু স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের আত্মপ্রকাশ ঘটবে। পৃথিবীর সমস্ত ব্যবসা-বাণিজ্য থমকে যাবে,ব্যাংকিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে, দেশে দেশে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেবে ঔষধ সহ চিকিৎসা সামগ্রীর দাম বেড়ে যাবে, খাদ্য সামগ্রী উৎপাদন হ্রাস ও সরবরাহ না থাকায় বিশ্বব্যাপী খাদ্য ঘাটতি দেখা দেবে যার ফলে পৃথিবীর বহু দেশে দুর্ভিক্ষ নেমে আসবে- যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষে ব্যাপক প্রাণহানি সহ পৃথিবীর জলবায়ুতে ব্যাপক পরিবর্তন সহ জীববৈচিত্র বদলে যেতে পারে।

পরামর্শঃ সূর্য গ্রহণ চলাকালীন সময়ে আহার থেকে বিরত থাকা(রোগী ও শিশুদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়) যেকোনো ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার না করা এবং যেকোনো আগুনের ব্যবহার করা থেকে নিজেকে বিরত রাখা উচিৎ প্রত্যেক জাতক-জাতিকার সকল কর্ম হতে বিরত থেকে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পবিত্র হয়ে পবিত্র স্থানে দুরুদ সালাত(নামাজ) ধ্যানে/প্রার্থনায় মশগুল থাকা আবশ্যক।

হে আকাশের মালিক আল্লাহ্ আপনি দয়া করে মায়া করে- আপনার সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব জাতিকে সকল যুদ্ধ বিগ্রহ মহামারি শোক ও দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা করে আপনার আদেশ নিষেধ মেনে চলার জন্য তৌফিক দান করুন। আমিন

এ্যাস্ট্রোলোজার ছালাম শিকদার
বাংলাদেশ
What’sApp: 01712-978539