• আজ ২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
 মরণোত্তর জাতিসংঘ পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী | শিশু রামিসা হত্যা মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলমান | বাবা-মায়ের কবরের পাশে সমাহিত তোফায়েল আহমেদ | আদ্-দ্বীন হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ | নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলায় ছাত্রদল জড়িত নয়’ | নাহিদের তাণ্ডবে কুপোকাত পাকিস্তান, ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের | শপিংমল-দোকানপাট খোলা রাখা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত মালিক সমিতির | আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি যেন পুলিশকে ব্যবহার করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী | গুম-খুনের রাজনীতি থেকে বের হয়ে নতুন দেশ গড়ার প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর | মানুষের সঙ্গে মিশে যাবেন, তাদের সঙ্গে নিয়ে নেতৃত্ব দিবেন — জেলা প্রশাসকদের প্রতি এলজিআরডি মন্ত্রী |

হত্যা ও লাশ গুমের অপরাধে দিনাজপুরে ৩ জনের মৃতু্দন্ড ও ৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড।

| নিউজ রুম এডিটর ৭:২৩ অপরাহ্ণ | ২৩/০৫/২০২২ আইন ও আদালত

রফিকুল ইসলাম ফুলাল প্রতিনিধি দিনাজপুর : দিনাজপুর ফুলবাড়ী উপজেলায় মোঃ হুমায়ুন কবির নামের এক যুবককে হত্যা করে ইটভাটায় লাশ গুম করে রাখার অপরাধে ৩ জনের মৃত্যুদন্ড ও ৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর বিচারক মেহেদী হাসান মন্ডল।

মৃতু্দন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন ফুলবাড়ী গড়পিংলাই গ্রামের তাছের উদ্দিনের ছেলে মোঃ শরিফুল ইসলাম ওরফে কায়েস (৩০), একই গ্রামের মৃত আলিফ উদ্দিনের ছেলে মোঃ আতোয়ার ওরফে আতাউর আলী (৬০) ও মোঃ আজাহার আলীর ছেলে মোঃ রেজাউল করিম বাবু (৩৫) এবং যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন ফুলবাড়ী গড়পিংলাই গ্রামের মোঃ আজাহার উদ্দিনের ছেলে মোঃ রব্বানী (৩২) ও মোঃ একরামুল হক (৩৮), একই গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে মোঃ সাঈদ আলী (৪৫) ও মোঃ ইদ্রিস আলীর ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (৩১)।

ফুলবাড়ী থানায় দায়েরকৃত ঘটনার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়ী উপজেলার গড়পিংলাই গ্রামের মোঃ শহিদুল ইসলামের ছেলে মোঃ হুমায়ুন কবির (২৪) মুদির দোকান করত এবং ব্যবসা বাণিজ্য শেষে রাত ১০টার মধ্যে বাড়ি ফিরে আসত। প্রতিদিনের ন্যায় গত ২০০৯ সালের ২০ আগস্ট বাসা থেকে বের হয়ে হুমায়ুন কবির আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ২১ আগস্ট দুপুর ১২টায় উক্ত গ্রামের গওই ইটভাটার দক্ষিণ-পূর্ব কোণে ভাংড়ী ইটের স্তুপের মধ্যে রক্তমাখা অবস্থায় হুমায়ুন কবির এর লাশ দেখতে পায় অত্র গ্রামের উজ্জ্বল নামের এক ছেলে। লাশটি দেখতে পেয়ে উজ্জ্বল হুমায়ুন কবির এর পরিবারকে খবর দিলে তার পরিবার এসে গুরুত্বর জখম ও রক্তাক্ত অবস্থায় হুমায়ুন কবির এর লাশ উদ্ধার করে এবং একই দিনেই হুমায়ুনের বড় ভাই মোঃ তোহিউল ইসলাম (বাবু) উপরোক্ত আসামীদের বিরুদ্ধে ফুলবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলার এজাহার দায়ের করেন। বাদীর দায়েরকৃত অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায় যে, সম্পদকে কেন্দ্র করে পারিবারিক শত্রুতার জের ধরেই হুমায়ুন কবিরকে হত্যা করা হয়েছে।

পরবর্তীতে পুলিশ তদন্ত শেষে ৭জনকে আসামী করে আদালতে একটি চার্জশীট দাখিল করেন। দীর্ঘদিন মামলার প্রক্রিয়া শেষে বাদী, বিবাদী, রাষ্ট্র পক্ষের উকিল ও আসামী পক্ষের উকিলের যুক্তিতর্ক এবং ১৬ জনের সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে গত ২৩ মে বিকাল ৪টায় দিনাজপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর বিচারক মেহেদী হাসান মন্ডল হত্যার সাথে যুক্ত থাকার অপরাধে মোঃ শরিফুল ইসলাম ওরফে কায়েস (৩০), মোঃ আতোয়ার ওরফে আতাউর আলী (৬০) ও মোঃ রেজাউল করিম বাবু (৩৫) কে ৩০২/৩৪ ধারায় মৃতু্যদন্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে দুই বৎসরের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। এছাড়াও মোঃ রব্বানী (৩২), মোঃ একরামুল হক (৩৮), মোঃ সাঈদ আলী (৪৫) ও মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (৩১) কে যাবজ্জীবন কারাদন্ড সহ ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক বৎসরের বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করেন।

উলেস্নখিত যে, উপরোক্ত আসামীদের এছাড়াও ২০১ ধারায় তিন বৎসরের সশ্রম কারাদন্ড সহ ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়।

রাষ্ট্র পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট শাহ্‌ মোস্ত্মাফিজুর রহমান (টুটুল) এবং আসামী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট মোঃ ইসাহাক আলী।