• আজ ২৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদির সঙ্গে বিমান যোগাযোগে নতুন মাইলফলক, বাড়ছে যাত্রী ও কার্গো সুবিধা

| নিউজ রুম এডিটর ৮:২৫ অপরাহ্ণ | ১৩/০৮/২০২৬ News

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিমান যোগাযোগে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। দুই দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন সমঝোতা স্মারকের (MoU) আওতায় সাপ্তাহিক যাত্রীবাহী ফ্লাইটের সংখ্যা ৪৯ থেকে বাড়িয়ে ৮৪ করা হয়েছে। এর ফলে প্রতি সপ্তাহে অতিরিক্ত ৩৫টি ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা দুই দেশের ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক এসব তথ্য জানান। এ সময় সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বেবিচক চেয়ারম্যান জানান, এই সমঝোতার ফলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন বাংলাদেশের হজ ও ওমরাহযাত্রীরা। বিশেষ করে হজ মৌসুমে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ ও আসন সংকট মোকাবিলায় বাড়তি ফ্লাইটগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া সৌদি আরবে কর্মরত প্রায় ৪০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশিও এর সুফল পাবেন। ফ্লাইট ও আসনসংখ্যা বাড়ায় প্রবাসীদের যাতায়াত সহজ হবে এবং প্রতিযোগিতামূলক ভাড়ার সুফল যাত্রীরা পাবেন।

নতুন এই চুক্তির আওতায় ঢাকার পাশাপাশি দেশের আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোর ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রাম ও সিলেটে সৌদি এয়ারলাইনগুলোর ফ্লাইট পরিচালনার পরিধি বাড়ায় রিয়াদ, দাম্মাম, মদিনা ও জেদ্দার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সহজ হবে।

যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি কার্গো বা পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও বড় সাফল্য এসেছে। নতুন চুক্তিতে সপ্তাহে ২১টি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে তৈরি পোশাক, শাকসবজি ও ফলমূলসহ বিভিন্ন বাংলাদেশি পণ্য দ্রুত সৌদি বাজারে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এছাড়া ‘পঞ্চম স্বাধীনতা ট্রাফিক অধিকার’ বা ফিফথ ফ্রিডম রাইটসের আওতায় বাংলাদেশের এয়ারলাইনগুলো সৌদি আরব হয়ে স্পেন ও জার্মানির মতো গন্তব্যেও কার্গো সেবা পরিচালনা করতে পারবে।

সমঝোতায় কোড-শেয়ারিং, কো-টার্মিনালাইজেশন এবং উড়োজাহাজ লিজিংয়ের মতো আধুনিক বাণিজ্যিক সুযোগগুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বেবিচক মনে করছে, এই সমঝোতা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বাংলাদেশকে একটি কার্যকর আঞ্চলিক এভিয়েশন ও কার্গো হাব হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।