• আজ ৩রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীকে একবেলা খাওয়াতে চান সাহেরা

| নিউজ রুম এডিটর ৯:২৪ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২২ লিড নিউজ, সারাদেশ

কখনো প্রতিবেশীর বাড়ি, কখনো আত্মীয়ের বাড়ি, আবার কখনো খোলা আকাশের নিচে বসবাস। তারা নিজের ভিটে-মাটিতে থাকা সমাজের আর দশজন মানুষের মতো নয়। এক জায়গা থেকে তাড়িয়ে দিলে আরেক জায়গায় বসতি। তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য আর মানুষের অবহেলাই তাদের নিত্যনৈমিত্তিক সঙ্গী। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে থেকেছেন ঝুপড়ি আর পলিথিনের ঘরে।

বলছিলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রানিয়াচং আশ্রয়ণের কিছু বাসিন্দাদের জীবনের কথা। সাহেরা বানু, সাবেরা বেগম, সুচিত্রা দাস, বেনু সরকার এরা সবাই আশ্রয়ণের বাসিন্দা। সুন্দরভাবে খেয়ে-পরে চলছে তাদের জীবন। অন্য দশটা মানুষের মতোই এখন তাদের জীবন। বহুদিন ধরেই তারা এমন জীবন প্রত্যাশা করছিলেন।

সাহেরা বানু (৬০) তিন মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। তারা থাকেন স্বামীর বাড়ি। নিজের থাকার কোনো জায়গা ছিল না। আশ্রয়ণের ঘর পাওয়ার পর সেখানেই জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার স্বপ্ন দেখছেন। নিজের চলার জন্য ঘরের বারান্দায় নিয়েছেন ছোট একটি দোকান। আশ্রয়ণের মানুষের কাছে বিক্রি করে যা আয় হয়, তা দিয়েই চলে তার সংসার।

সাহেরা বানু বলেন, ‘আল্লা খুব শান্তি করছে। ঘর নাই দেইক্কা মাইনসের কত কথা হুনছি। এর থেইক্কা শান্তি আর হয় না।’

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে সাহেরা বানু বলেন, ‘আমি সাহেরা বানু, শেখ হাসিনারে সালামালি দিলাম। ইনশাআল্লাহ আমি রানিয়াচং থাহি। আমি খুব শান্তি আছি। আমি তাইনেরে দাওয়াত দিলাম আমার ঘরে আইয়া খাইব। আমি গরিবের ঘরটা দেইক্কা যাইব আর খাইয়া যাইব। ইনশাআল্লাহ।’

সাহেরা বানুর ঘরে গিয়ে দেখা যায়, খুব সুন্দর পরিপাটি গোছানো ঘর, মেঝেতে কার্পেট বিছানো। প্রধানমন্ত্রী আসলে কোথায় থাকতে দেবেন- সেজন্য একটি খাটও ঠিক করে রেখেছেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদি হাসান খান শাওন বলেন, সাহেরা বানু রানিয়াচং আশ্রয়ণের বাসিন্দা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে তিনি তার আশ্রয়ণে খাওয়াতে চান। শুনেছি তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর থাকার জন্য খাটও ঠিক করে রেখেছেন।