• আজ ২রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অভাবের তাড়নায় স্কুল ছেড়ে ‘সোহাগ’ এখন আইসক্রিম বিক্রেতা

| নিউজ রুম এডিটর ১১:১০ পূর্বাহ্ণ | এপ্রিল ১, ২০২২ লালমনিরহাট, সারাদেশ

আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ কিশোরের নাম সোহাগ ইসলাম। বয়স আনুমানিক ১২ বছর। তার বাবা নুরুজ্জামান আহম্মেদ একজন ভ্যানচালক। মা ছামছুর নাহার গৃহিনী। যে বয়সে বইখাতা হাতে নিয়ে তার বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা সেই বয়সে দরিদ্র সংসারে আর্থিকভাবে বাবা-মা’কে সহযোগীতা করতে সে হয়েছেন আইসক্রিম বিক্রেতা।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার নওদাবাস ইউনিয়নের কেকতীবাড়ি এলাকার কিশোর সোহাগ ইসলাম। সোহাগ স্থানীয় কেকতীবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। তবে এলাকার সাধারণ আর দশটা কিশোরের মতো জীবন চলে না তার।

অভাবের তাড়নায় সংসারের হাল ধরতে প্রতিদিন সাইকেলের পিছনে আইসক্রিমের বাক্স নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন সোহাগ। এভাবেই টাকা উপার্জনের লক্ষ্যে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আইসক্রিম বিক্রি করে সে।

কিশোর সোহাগ বলেন, সারাদিন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার আইসক্রিম বিক্রি করি। আইসক্রিম ক্রয় বাবদ মালিককে দিতে হয় ২৫০ টাকা। আর বাকি যে টাকা জমা থাকে সেটা বাবার হাতে তুলে দেই।

সোহাগ আরও বলেন, আগে আইসক্রিম বিক্রি করতাম না। করোনা ভাইরাসের কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় লেখাপড়ার পাশাপাশি আইসক্রিম বিক্রি শুরু করি। তখন থেকেই আইসক্রিম বিক্রি করে আসছি। তাছাড়া বাবা অসুস্থ হওয়ায় আর আগের মতো ভ্যান নিয়ে চলতে পারেনা। তাই লেখাপড়ার পাশাপাশি আইসক্রিম বিক্রি করে যে টাকা উপার্জন করি সেটা সংসারের কাজে দিই।

কিশোর সোহাগের মা ছামছুর নাহার বলেন, সোহাগের বাবা একজন যক্ষা রোগী। তাই আগের মতো পরিশ্রম করতে পারেনা। বাড়িতে চারজন মানুষের সকল খরচ একাই চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই লেখাপড়ার পাশাপাশি আইসক্রিম বিক্রি করে সংসারে যে টাকা দেয় সেটা দিয়ে তার বাবার কষ্ট কিছুটা কমে৷

কেকতীবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষার্থী কাজে জড়িয়ে পড়েছে। সোহাগের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে যতটুকু সম্ভব স্কুল থেকে তাকে সহযোগিতা করা হবে। এ ছাড়া সোহাগকে সহযোগিতা করতে সমাজের বিত্তবান মানুষকে এগিয়ে আসার অনুরোধ করেন তিনি।