• আজ ২রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

স্ত্রীকে জবাই করে হত্যার দায়ে গাইবান্ধায় দুলাভাই ও শ্যালকের মৃত্যুদন্ড

| নিউজ রুম এডিটর ৬:১৩ অপরাহ্ণ | জুন ৩০, ২০২২ ঠাকুরগাঁও, সারাদেশ

আশরাফুল ইসলাম গাইবান্ধা::গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার কামালেরপাড়া গ্রামে দ্বিতীয় স্ত্রীকে জবাই করে হত্যার দায়ে স্বামী সাইফুল ইসলাম ও প্রথম স্ত্রীর ভাই করিম মিয়া (শ্যালক-দুলাভাইয়ের) মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন গাইবান্ধা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত। একই সাথে উক্ত মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

আজ ৩০ জুন বৃহস্পতিবার দুপুরে গাইবান্ধা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফেরদৌস ওয়াহিদ এ মামলার আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদন্ড প্রাপ্তরা হলো, জেলার সাঘাটা উপজেলার কামালেরপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম ও একই উপজেলার বসন্তেরপাড়া গ্রামের করিম মিয়া। করিম মিয়া সাইফুলের প্রথম স্ত্রীর ভাই। মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত দুজন সম্পর্কে দুলাভাই – শ্যালক । রায়ে এ মামলায় খালাসপ্রাপ্ত অপর তিনজন হলেন সাইফুলের প্রথম স্ত্রী পারভীন আক্তার, মা কোহিনুর বেগম বুলি ও শ্যালক কুদ্দুস রানা। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (অতিরিক্ত পিপি) আবু আহম্মেদ আব্দুল্লাহ কনক। আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এ্যাড.আবু আলা সিদ্দিকুল ইসলাম ও এ্যাড.শাহ মো. জামিল।

বিজ্ঞ আদালতের এরায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে এ্যাড. আবু আহম্মেদ আব্দুল্লাহ কনক সাংবাদিকদের বলেন, এ মামলার ঘটনাটি একটি নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনা ছিলো। আদালতে বিচার আমলে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত সাইফুল ও তার প্রথম স্ত্রীর ভাই করিম দুজন মিলে পারভীন বেগম কে হত্যা করে লাশ সেপটিক ট্যাংকিতে ফেলে রাখার কথা স্বীকার করেন। এরপর মামলায় আদালতে সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে হত্যাকান্ডে অংশ নেয়া দুই জনের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন। তবে এ মামলার বাকি অপর তিন আসামিরা নিরাপরাধ হওয়ায় তাদের মামলা হতে খালাস দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।

এ মামলার এজাহারের সূত্রে জানান, গত ২০১৫ সালে সাইফুল ইসলামের সাথে পারভীন বেগমের বিয়ে হয়। এটি ছিল সাইফুলের ২য় বিয়ে। বিয়ের পর সংসার করলেও তাদের কোনো সন্তান হয়নি। সাইফুলের প্রথমপক্ষের স্ত্রী থাকায় প্রায়ই সাংসারিক বিভিন্ন বিষয়ে ২য় স্ত্রী পারভীনের সঙ্গে ঝগড়া লেগেই থাকতো। এ পরিস্থিতিতেই একটি মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে যায় সাইফুল ইসলাম। তখন পারভীন সাইফুলের বাড়ী ছেড়ে তার বাবার বাড়ীতে চলে যান। সাইফুল জামিনে বেড়িয়ে পারভীনকে তার বাড়ীতে নিয়ে যায়। কিন্তু হঠাৎ করেই ২০১৭ সালের ২৬ জুলাই থেকে পারভীন বেগমের আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলো না। এরপর, ৩০ জুলাই সাইফুলের প্রথম স্ত্রীর খালা শাশুড়ীর সাঘাটা উপজেলার বসন্তেরপাড়া গ্রামের বসত বাড়ীর সেপটিক ট্যাংক থেকে পারভীনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।এ ঘটনায় নিহত পারভীন বেগমের ভাই আজিজুল রহমান বাদি হয়ে সাঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় সাইফুল ও করিম পাঁচ জনকে আসামি করা হয়। পরে তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। এ মামলায় সাইফুল ও করিমকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।