• আজ ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
 নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলায় ছাত্রদল জড়িত নয়’ | নাহিদের তাণ্ডবে কুপোকাত পাকিস্তান, ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের | শপিংমল-দোকানপাট খোলা রাখা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত মালিক সমিতির | আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি যেন পুলিশকে ব্যবহার করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী | গুম-খুনের রাজনীতি থেকে বের হয়ে নতুন দেশ গড়ার প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর | মানুষের সঙ্গে মিশে যাবেন, তাদের সঙ্গে নিয়ে নেতৃত্ব দিবেন — জেলা প্রশাসকদের প্রতি এলজিআরডি মন্ত্রী | স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রশ্নে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী | তেল পাচার রোধ ও ঈদকে সামনে রেখে নিরাপত্তা জোরদার | মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা | টেকনাফে গহীন পাহাড়ে মিলল ৩ জনের রক্তাক্ত মরদেহ |

১০ জনকে প্রাণে বাঁচিয়ে হিরো মোহাম্মদ মানিক

| নিউজ রুম এডিটর ১১:৫৪ অপরাহ্ণ | ০৭/১০/২০২২ আন্তর্জাতিক

পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার মাল নদীতে গত বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে বিজয়া দশমীর দিন দুর্গা প্রতিমা ভাসানের সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রতিমা ভাসানের সময় হঠাৎ করে হড়পা বান চলে আসায় মৃত্যু হয় আটজনের। মৃত্যুর সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বাড়তে পারতো। কিন্তু তা হয়নি।

হড়পা বান যখন সকলকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, প্রাণ বাঁচাতে নদী থেকে যখন মানুষ ডাঙ্গায় উঠে আসার চেষ্টা চালাচ্ছেন, তখনই নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে অন্যদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তেশিমলা গ্রামের যুবক মোহাম্মদ মানিক।

ঘটনার সময় নদীর পাড়েই হলুদ টি-শার্ট পরে দাঁড়িয়েছিলেন মানিক। এলাকায় সমাজকর্মী বলেই পরিচিত। বন্ধুদের সঙ্গে তিনিও এসেছিলেন প্রতিমা ভাসানো দেখতে।

কিন্তু চোখের সামনে এতগুলো মানুষের প্রাণ সংশয় দেখায় তিনি প্রায় ১৫ ফুট উঁচু পাড় থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন। প্রায় দশ জনের প্রাণ বাঁচান। সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে তার সেই ঝাঁপ দেওয়ার ছবি ইতোমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। আর এরপর থেকেই গ্রামের হিরো তিনিই।
তবে অন্যের প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে মানিকও অল্প আহত হন। তার পায়ে চোট লাগে। ওইদিন রাতেই তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। সেখানে অবশ্য প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানিক যেভাবে এতগুলো মানুষের প্রাণ বাঁচান তাতে তাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন নেটিজেনরা।

মানিক বলেন, ‘বন্ধুদের সঙ্গে মাল নদীর ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন দেখতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ করে দেখি নদীর পানি বেড়ে যাচ্ছে। পানির প্রবল স্রোতে অনেকে ভেসে যাচ্ছিল। একের পর এক মানুষ চারদিকে চিৎকার করছে, বাঁচার জন্য আর্তনাদ করছে। সেই সময় আমি আর কোনো কিছু চিন্তা করিনি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে ঝাঁপ মারি। এক এক করে ভেসে যাওয়া মানুষকে উদ্ধার করতে শুরু করি। আমি সাঁতার জানি, তাই মৃত্যুর ভয় ছিল না। বেশি করে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেছি। আমার নিজেরও চোট লেগেছে। তবে এতগুলো মানুষকে বাঁচাতে পেরে আমি খুশি। ’

এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, ‘কিছু বোঝা ওঠার আগেই মানিক ওর মোবাইল আর ঘড়ি আমার হাতে দিয়ে নদীতে ঝাঁপ দিল। আমি সাঁতার জানি না, তাই নদীর পাড়ে দাড়িয়েছিলাম। ’

তবে শুধু মোহাম্মদ মানিকই নয়, বিজয় দশমীর ওই রাতে স্থানীয় বেশ কয়েকজন যুবকই খরস্রোতা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও স্থানীয় যুবকদের এই সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন।