• আজ ২১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসিনার দেশত্যাগের অজানা অধ্যায়, দুই বছর পর চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

| নিউজ রুম এডিটর ৩:১৫ অপরাহ্ণ | ০৫/০৮/২০২৬ অপরাধ-দুর্নীতি

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগ ছিল নানা গোপনীয়তা ও নাটকীয়তায় ঘেরা। ঘটনার দুই বছর পর সামরিক ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাਤੇ সেই অভিযানের নতুন কিছু তথ্য উঠে এসেছে। হেলিকপ্টার থেকে সামরিক বিমান, পাইলট-ক্রু, নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং ভারত যাত্রার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিসহ দেশত্যাগের নানা দিক নিয়ে গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। যদিও এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি, তবে সূত্র বলছে গোয়েন্দা সংস্থার বিস্তারিত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মহеল সরবরাহ করা হয়েছে।

৫ আগস্ট সকালে লাখো মানুষ রাজধানী ঢাকায় প্রবেশ করে এবং পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে গণভবনের দিকে অগ্রসর হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে হাসিনাকে মাত্র ৩০ মিনিট সময় বেঁধে দিয়ে দ্রুত গণভবন ত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর বাণিজ্যমেলার কাছাকাছি স্থানে বিমানবাহিনীর একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার নামে এবং হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে কুর্মিটোলা এয়ার বেইজের উদ্দেশে উড়াল দেয়। এই উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্বদানকারী পাইলট ও কো-পাইলটদের বিষয়েও চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে।

কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে আগে থেকেই ইঞ্জিন চালু অবস্থায় একটি সি-১৩০ জুলিয়েট সামরিক পরিবহন বিমান অপেক্ষমাণ ছিল। সেখানে হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকীর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তারিক সিদ্দিকী নিজে ওই বিমানে ওঠেননি এবং পরবর্তীতে দেশত্যাগ করেন। বিমানটি কঠোর গোপনীয়তায় ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে এবং নির্ধারিত রুট পরিবর্তন করে ৫ আগস্ট বিকেলে ভারতের হিন্দন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও পাইলটদের বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত করা হয়। সাবেক সামরিক কর্মকর্তারা জানান, পদত্যাগের পর রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা তাদের দায়িত্ব পালন করলেও ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে এই প্রস্থান ছিল অত্যন্ত নাটকীয়।