• আজ ৫ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে ভাই-বোনের সম্পর্ক দৃঢ় করতে রাখীবন্ধন অনুষ্ঠান পালিত

| নিউজ রুম এডিটর ৯:০৪ অপরাহ্ণ | আগস্ট ১২, ২০২২ সারাদেশ

মোঃবুলবুল ইসলাম,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে রাখীবন্ধন অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে। শুক্রবার (১২ আগস্ট) সকালে কলেজ মাঠের নজরুল মঞ্চে সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ শাখার উদ্যোগে এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি পালিত হয়।

অনুষ্ঠানে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের প্রায় ৫০ জন হিন্দু শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এই দিন দিদি বা বোনেরা তাদের ভাই বা দাদার হাতে রাখী নামে একটি পবিত্র সুতো বেঁধে দেন। এই রাখীটি ভাই বা দাদার প্রতি দিদি বা বোনের ভালবাসা ও ভাইয়ের মঙ্গলকামনা এবং দিদি বা বোনকে আজীবন রক্ষা করার ভাই বা দাদার শপথের প্রতীক। অনুষ্ঠানে দাদা বা ভাইদের পক্ষ থেকে বোন বা দিদিদের উপহার প্রদান করা হয়। হিন্দু পঞ্জিকা মতে শ্রাবন মাসের শুক্লা পক্ষের পূর্ণিমা তিথিতে এই উৎসব পালন করা হয়ে থাকে।

আয়োজক সংগঠনটির সভাপতি তাপস রায় বলেন, এই আয়োজনটি ভাই-বোনদের সম্পর্ক দৃঢ় করবে। আমরা এধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখবো। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনকারী শিক্ষার্থী বৃষ্টি রায় বলেন, দাদার হাতে রাখী পড়াতে পেরে ভালো লাগছে। এই দিনটি বারবার ফিরে আসুক। আয়োজকদের অসংখ্য ধন্যবাদ।

রাখিবন্ধন উৎসব হল একটি মহাপবিত্র ও সুন্দর সংহতির অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানের দ্বারা ভাই-বোনের মধ্যে ভালোবাসা ও স্নেহের বন্ধনকে দৃঢ় শক্তিশালী ও পুনরুজ্জীবিত করে তোলে। এই চিরন্তন পবিত্র উৎসব পরিবারের সকল সদস্যদের পাশাপাশি সমাজ তথা সমগ্র মানবজাতিকে সুসম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ করে ও ঐক্যকে নিশ্চিত করে। রাখিবন্ধন অনুষ্ঠানে ভাইদের পাশাপাশি বোনরা নতুন পোশাক পরিধান করে এবং মিষ্টি মুখ করানোর মধ্য দিয়ে ভাইদের হাতে পবিত্র সুতো বা রাখি বেঁধে দেয়। পরিবর্তে ভাইরা বোনদেরকে উপহার দিয়ে থাকে।

উল্লেখ্য, ‘রাখিবন্ধন’ বা ‘রাখিপূর্ণিমা’ একটি সুপ্রচলিত পবিত্র উৎসব। প্রধানত এই দিনে ভাই-বোনের সম্পর্ক আজীবন রক্ষা করার উদ্দেশ্যে দাদা বা ভাইয়ের ডান হাতের কব্জিতে দিদি বা বোনেরা পবিত্র সুতো বেঁধে দেয়। এর মাধ্যমে দিদি বা বোনেরা, দাদা বা ভাইয়ের মঙ্গল কামনা করে থাকে। রাখিবন্ধন উৎসবটি দক্ষিণ এশিয়ার সকল জাতি ও বর্ণের মানুষের মধ্যে প্রচলিত। তবে হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ ধর্মের মানুষদের মধ্যেই বেশী প্রচলিত থাকে। তবে বর্তমানে এদেশের পাশাপাশি বিদেশেও এই উৎসব খ্যাতি অর্জন করেছে।