• আজ ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বৈশাখী মেলার গান-বাজনায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি শিকেয় !

| নিউজ রুম এডিটর ১১:২৫ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ২৬, ২০২৩ সারাদেশ

বরিশাল ব্যুরো ॥ ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় প্রশাসনের উদাসীনতা ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাবে শব্দ দুষণের শিকার হয়ে চলতি মাসের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি বিঘিœত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে পরীক্ষার ফলাফলে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা চরম দুশ্চিন্তায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে।

অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে , উপজেলার আমুয়া ইউনিয়নের শহিদ রাজা ডিগ্রি কলেজের মাঠে তিন দিন ব্যাপি বৈশাখী মেলা ও ঈদ পূর্ণমিলনীর আয়োজন করে স্থানীয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। যা ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে শুরু হয়। শুরুর পর থেকেই প্রতিদিন বিকেল থেকে শুরুকরে গভীর রাত পর্যন্ত চলে গান-বাজনা সহ নানান আয়োজন। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উচ্চশব্দে সাউন্ড সিস্টেমের ব্যবহারে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে আশপাশ এলাকার এসএসসি পরীক্ষার্থীদের শেষ মূহূর্তে পরীক্ষা প্রস্ততির স্বাভাবিক পরিবেশ। অনুষ্ঠানের আয়োজন কেন্দ্রের ৫ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে প্রায় ৬-৭ টি স্কুল-মাদ্রাসা।

ইতিমধ্যে এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা কবির হোসেন। তার অভিযোগে জানাগেছে, মেলায় গান-বাজনা করে শব্দ দুষণের পাশাপাশি প্রতিদিন মেলায় কয়েক লক্ষ টাকার লটারি বিক্রি করা হয়। ফলে ঐ এলাকার যুবক-যুবতী, শিক্ষার্থী সহ স্থানীয়রা লটারি ক্রয় করে ফলাফলের জন্য গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করে।

একদিকে চলতি মাসের ৩০ এপ্রিল শুরু হওয়ার কথা এসএসসি পরীক্ষা এই মূহূর্তে এমন অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে দেয়ওয়া প্রশাসনের উপর এক ধরনের চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এলাকার সুশীল সমাজের মধ্যে। অপরদিকে সেই অনুষ্ঠানে গভীর রাত পর্যন্ত স্থানীয় জনতার সাথে কাঠালিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও, থানার অফিসার ইনচার্জ, ইউপি চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ নেতা সহ বিভিন্ন শ্রেনীর পেশার মানুষ অংশগ্রন ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করছে।
উপজেলা মাধ্যমিক কার্যালয় থেকে জানা গেছে, আমুয়া বন্দর আমীর মোল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র রয়েছে। যেখানে ১৩ স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেয়। যেটা বর্তমানে আয়োজিত অনুষ্ঠান কেন্দ্র থেকে মাদ্র ৫০ গজ দূরত্বে অবস্থিত।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে একাধিক এসএসসি পরীক্ষার্থীরা জানান, গত দুই দিন যাবত দিনে-রাতে প্রায় সময়ই উচ্চ শব্দে মাইকে বা ডেকসেটে বাজানো হচ্ছে গান-বাজনা। আবার রাতে চলে অনেক আয়োজন। তাই আমাদের পড়ালেখা করতে খুব অসুবিধা হচ্ছে। এসব শব্দ আমাদের কানে এসে লাগে। মনোযোগ সহকারে পড়তে পারি না। তারা এসব উচ্চ শব্দ বন্ধ করার দাবি জানায়।
পরীক্ষার্থীদের অভিভাবক আবুল হোসেন, মুনসুর আহম্মেদ বলেন, যেভাবে আমাদের এলাকায় বৈশাখী মেলায় গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে মাইক বা ডেকসেট বাজানো হচ্ছে এতে করে আমাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার বিঘœ ঘটছে। তাদের দাবি প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেন পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

আমুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক জিয়া মিরবহর জনান, এলাকার বেশীরভাগ সচেতন ব্যক্তিরাই এ অনুষ্ঠানের সাথে জড়িত। অসচেতন ব্যক্তিরা আইনের প্রতি বেশী শ্রদ্ধাশীল। এখানে কর্তার ইচ্ছায় কের্তন হয়, তাই দেখার কেউ নেই।

এ ব্যাপারে ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক ফারহ্ গুল নিঝুম বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। এমন বিষয় আসলেই দুঃখজনক। আমি খোজ নিয়ে বিষয়টির ব্যবস্থা নিচ্ছি।