• আজ ১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিষাক্ত প্লাস্টিক ড্রামে তেল বিক্রিতে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি

| নিউজ রুম এডিটর ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ | জুন ১৭, ২০২৩ জাতীয়

বোতলজাত ভোজ্যতেল সয়াবিনের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী খোলা সয়াবিন তেল ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। কিন্তু খোলা সয়াবিন তেল অস্বাস্থ্যকর, রাসায়নিক পণ্যবাহী বিষাক্ত প্লাস্টিক ড্রামে পরিবহণ, মজুত ও বিক্রি করায় জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে খাদ্য নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। বিষাক্ত, অস্বাস্থ্যকর ও ময়লাযুক্ত সয়াবিন তেল ব্যবহার করে ক্রেতারা পেটের নানা রকম পীড়ায় ভুগছেন। এমনকি মরণব্যাধি ক্যানসারের ঝুঁকিতে তারা পড়ছেন।

কিশোরগঞ্জের প্রসিদ্ধ বাণিজ্যকেন্দ্র বড়বাজার এবং ভৈরববন্দর বাজারসহ জেলার হাট-বাজারে প্রকাশ্যে বিষাক্ত রাসায়নিক পণ্যবাহী প্লাস্টিক ড্রামে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। বিষাক্ত ড্রামে পরিবহণ করায় তেল বিষাক্ত হয়ে পড়ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তারা প্লাস্টিকের ড্রামে সয়াবিন তেল আমদানি করেন। রাসায়নিক পণ্যবাহী প্লাস্টিকের ড্রামগুলো সংগ্রহ করার পর সেগুলো পরিষ্কার করা হয়। এরপর সয়াবিন তেল ভর্তি করে পরিবহণ, মজুত ও বিপণন করে আসছেন।

খোলা সয়াবিন তেল কিনতে আসা ষাটোর্ধ লোকমান আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এক সময় ভেজালপণ্য বিক্রেতারা এমনকি দুধ বিক্রেতারা পর্যন্ত তটস্থ থাকত। ভেজাল পেলে তেল-দুধ বিক্রেতাদের মাথায় ঢেলে দিয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার পাশাপাশি জরিমানা ও সাজা দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে অসাধু ব্যাবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। জেলার ১৩টি উপজেলায় অস্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়ায় ভোজ্যতেল বিক্রি হচ্ছে।

সূত্র জানায়, ভোজ্য তেলের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতির সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী নিম্নমানের পাম ওয়েলও সয়াবিন তেলের রূপ দিয়ে বিক্রি করে মুনাফা লুটে নিচ্ছে। বিশেষ ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করে আবার সয়াবিন তেলও সরিষার তেলে পরিণত করার অভিযোগ রয়েছে। কিশোরগঞ্জের বড়বাজার ও ভৈরব বন্দর বাজারের ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে বড় বড় গুদামে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ড্রামে সয়াবিন তেল মজুত করে আসছেন। রাজনৈতিক প্রভাব, অর্থ ও খুঁটির জোরে তারা তদারকি কর্তৃপক্ষকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এমন ব্যবসা চালিয়ে আসছেন।

কিশোরগঞ্জ বড়বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তাজুল ইসলাম দাবি করেন-ক্ষতিকর রাসায়নিকের ড্রামে তেল আমদানি, মজুদ ও বিপণন না করার বিষয়ে তিনি ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করে আসছেন। স্বাস্থ্যসম্মত পাত্রে তেল আমদানি-রপ্তানি, মজুত ও বিপণন করার পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

কিশোরগঞ্জের সাবেক সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান জানান, এমন পরিস্থিতিতে ভয়ংকর স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়বে জনস্বাস্থ্য। এদিকে, এমন অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতির কথা স্বীকার করলেও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হৃদয় রঞ্জন বণিক ও কিশোরগঞ্জ জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম তালুকদার কৌশলে তাদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তারা ব্যবসায়ীদের ক্ষতিকর দিক বর্জনের পরামর্শ দেন।