• আজ ৮ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তানোরে চোরা পথে আশা সারে বাজার সয়লাব ?

| নিউজ রুম এডিটর ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ১১, ২০২৩ অর্থনীতি

রাজশাহীর তানোরের তালন্দ বাজারের কীটনাশক ব্যবসায়ী কাজলের বিরুদ্ধে সার বিপণন নীতিমালা লঙ্ঘন করে, চোরাপথে রশিদ বিহীন (এমওপি) পটাশ সার এনে মজুদ ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ১০ জুলাই সোমবার তানোর পৌর এলাকার তালন্দ বাজারের কীটনাশক ব্যবসায়ী কাজল। কয়েক ভুটভুটি পটাশ সার হরিদেবপুর গ্রামে তার বাড়িতে মজুদ করেন। তবে এসব সারের কোনো ক্রয় রশিদ ছিলনা। ফলে সার আসল-নকল না চোরাই তা বোঝার উপায় নাই। প্রশাসন তার বাড়িতে অবিযান দিলে প্রমাণ পাবে। এবিষয়ে জানতে চাইলে কাজল বলেন, মোহনপুর উপজেলার কেশরহাটের সার ব্যবসায়ী রহমানের কাছে থেকে এসব সার এনেছেন। তিনি বলেন, তানোরে সারের সঙ্কট তাই কৃষি কর্মকর্তাকে অবহিত করে সার এনেছেন, এছাড়াও সেখানে সরকারি দাম থেকেও কম দামে সার কেনা যায়।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার কতিপয় কৃষি কর্মকর্তার মদদে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র ক্রয় রশিদ ছাড়াই নন ইউরিয়া সার চোরপথে এনে মজুদ ও বিক্রি করছে। অধিকাংশক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত দাম থেকেও কম দামে এসব সার বিক্রি করা হচ্ছে। সচেতন মহলের ভাষ্য সরকার অনুমোদিত ডিলারগণ। যখন অগ্রিম টাকা দিয়েও চাহিদামত এসব সার পাচ্ছেন না। তখন একশ্রেণীর কীটনাশক ব্যবসায়ী সরকার নির্ধারিত দামের থেকে কম দামে কিভাবে বিক্রি করছে। এসব কারণে সরকার অনুমোদিত ডিলারদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৮মে বৃহস্প্রতিবার সকালে তানোর পৌর এলাকার ধানতৈড় মোড়ে চোরা পথে এনে একট্রাক ৪৮০ বস্তা (এমওপি) পটাশ মজুদ করা হয়। এসব সারের কোনো ক্রয় রশিদ ছিল না। যশোরের নওয়াপাড়া বাজারের দক্ষিন বঙ্গ ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির ট্রাকে এসব সার নিয়ে আশা হয়েছিল। অন্যদিকে সম্প্রতি, গোকুল গ্রামের জনৈক বাণী ক্রয় রশিদ ব্যতিত উপজেলার বাইরে থেকে চোরাপথে দুই গাড়ী এমওপি (পটাশ) সার নিয়ে আসে। এ সময় কৃষকেরা চাপড়া ব্রীজের কাছে অবৈধ সারসহ দুটি গাড়ী আটক করে কৃষি কর্মকর্তাকে অবগত করেন।কিন্ত্ত কৃষি কর্মকর্তা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

উপজেলার বিসিআইসি অনুমোদিত এক সার ডিলার বলেন, এই কৃষি কর্মকর্তার সময়ে সার নিয়ে যা চলছে, তাতে তাদের ব্যবসা করা দায়, এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নাই। কারণ ব্যাংক ঋণের টাকায় তাদের ব্যবসা এভাবে চোরাপথে সার আশা বন্ধ না হলে তাদের দেউলিয়া হতে হবে।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে তানোর পৌর এলাকার তালন্দ বাজারের বালাইনাশক ব্যবসায়ী মনিরুলের দোকানে সার পেয়ে কোন মেমো দেখাতে না পারার অপরাধে ১ লাখ ২৬ হাজার, একই কারনে টিপুর ১০ হাজার ও গণেশের ১৫ হাজার এবং কলমা ইউপির সার ব্যবসায়ী নজরুলের পাচারে দায়ে এক লাখ টাকা, ধানতৈড় মোড়ের খুচরা সার ব্যবসায়ী জসিমের ট্রাকে করে সার নামানোর দায়ে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। অথচ এখন প্রকাশ্যে একই অপরাধ করা হলেও অজ্ঞাত কারণে সবাই চুপ।

এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ বলেন, তানোর থেকে বাইরে সার না গেলেই হলো, বাইরে থেকে তানোরে আসলে সমস্যা কি বরং এটাতো কৃষকের জন্য ভাল। এবিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা বিসিআইসি অনুমোদিত সার ডিলার সমিতির সভাপতি আবুল কালাম বলেন, অনুমোদিত ডিলার বা ডিলারের মাধ্যমে ব্যতিত এভাবে ট্রাকে করে সার নিয়ে আশার কোনো সুযোগ নাই, এটা অবৈধ, রশিদ বিহীন এসব সার তিনি পুলিশে ধরিয়ে দেবার আহবান জানান।

এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সার ডিলার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী বাবু বলেন, কোনো কৃষকের পক্ষে ক্রয় রশিদ ব্যতিত এক সঙ্গে এতো বিপুল পরিমাণ সার নিয়ে আশা অসম্ভব। তিনি বলেন, যেখানে আমরা চাহিদা মতো পটাশ সার পায় না, সেখানে সাধারণ কৃষক কিভাবে একসঙ্গে এতো শুধু পটাশ সার পায়।তিনি বলেন, যদি সাধারণ কৃষকেরা এভাবে সার আনে তাহলে ব্যাংক ঋণের কোটি টাকা বিনিয়োগ করে তাদের ডিলারি করার কোনো মানে হয় না