• আজ ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তুরি সম্প্রদায়কে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ চক্রান্ত বন্ধের দাবীতে দিনাজপুর জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি প্রদান ও সংবাদ সম্মেলন

| নিউজ রুম এডিটর ১:১৯ অপরাহ্ণ | জুলাই ২৬, ২০২৩ সারাদেশ

রফিকুল ইসলাম ফুলাল দিনাজপুর প্রতিনিধি : পূর্নবাসন ছাড়া নবাবগঞ্জের সংখ্যালুঘু তুরি আদিবাসী (নৃতাত্বিক) জনগোষ্টিকে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ চক্রান্ত বন্ধের দাবীতে দিনাজপুর জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি প্রদান ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।২৫ জুলাই মঙ্গলবার দুপুরে দিনাজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপরোক্ত দাবী উপস্থাপন করেন নবাবগঞ্জ উপজেলার ৩নং গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের হরিলাথুর গ্রামের ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। এসময় সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে দিপু সিং বলেন, আমরা নবাবগঞ্জ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছি,তারা জোরপূর্বক আমাদের তুরি সম্প্রদায়ের ৩০টি পরিবারকে ওই বসতভিটা হতে উচ্ছেদের জন্য প্রতিনিয়ত হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আমরা ভুমিহীন মানুষ ওই (দাগ নং ২০৮,সিএস ৩,খতিয়ান ১ এবং জেএল নং ৭৪) খাষ জমিতে বসবাস করছি,আমরা ওই খাষ জমি প্রশাসনের কাছে লীজ চেয়েও পাইনি অথচ একই এলাকার ধণার্ঢ্য প্রভাবশালী শহিদুল ইসলাম( পিতা মৃত:তমেজ উদ্দীন)কে বেআইনী ভাবে উল্লেখযোগ্য পরিমান জমি লীজ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া সুকৌশলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ নবাবগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক মানিক বিপুল পরিমান জমি শেখ রাসেল ষ্টেডিয়াম নির্মানের নামে দখল নিয়েছে। কিন্তু একই স্থানে বসবাসকারী বাঙ্গালী ৫টি মুসলিম পরিবার বহাল তবিয়তে সেখানে বসবাস করলেও তাদেরকে উচ্ছেদের আওতায় নেয়া হয়নি,যা চরম অনিয়ম এবং স্বজনপ্রীতির শামিল। আমরা আদিবাসী বলে আমাদের উপর মানসিক নির্যাতন,ঘরবাড়ি উচ্ছেদসহ নানা রকমের নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার। তিনি প্রতিনিয়ত আমাদের সাথে চরম র্দূব্যবহার করে চলেছে। আমরা তুরি সম্প্রদায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি তালিকাভুক্ত হওয়া সত্বেও আজ পর্যন্ত সরকারী সব বরাদ্ধ থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছি। নবাবগঞ্জে তুরি সম্প্রদায়ের ৩০টি পরিবার ছাড়া অন্য কোথাও এই সম্প্রদায়ের বসবাস নেই, তাই এখান থেকে এই সম্প্রদায়কে উচ্ছেদ করা হলে এ সম্প্রদায়ের মানুষগুলো কালের গহব্বরে হারিয়ে যাবে।

লিখিত বক্তব্যে তারা আরো বলেন,ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠি মানুষেরা আজ উজার বনভুমির কারণে বসতি হাঁরাচ্ছে, শিক্ষা,কর্ম,জীবন ও সংস্কৃতি হারাতে বসেছে,নাগরিক অধিকারেও রয়েছে চরম বৈষম্য। কর্মের অভাবে খাদ্যের নিশ্চিয়তা নেই,জায়গার অভাবে নিশ্চিন্ত চিত্তে ঘুমাতেও পারি না। যে জমিতে জন্ম নিয়েছি সেই মাটিতে মৃত্যুর অধিকারও আমরা হারাতে বসেছি। স্বাধীনতার ৫২ বছর পরেও প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠিকে রাষ্ট্র মুল স্্েরাতধারা সংযুক্ত করেনি, ফলে আমরা চরমভাবে সর্বক্ষেত্রে বঞ্চিত হচ্ছি। তাই আমরা মনে করি ক্ষুদ্র নৃ গোষ্টি মানুষদের অধিকার হরণ ও উন্নয়নের ডামাডোল একসাথে চলতে পারে না। এই দেশে বসবাসের অধিকারসহ ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠির শিক্ষা,স্বাস্থ্য,কর্মের নিশ্চয়তা এই রাষ্ট্রকেই দিতে হবে। আমরা ঘরবাড়ি হতে উচ্ছেদ বন্ধসহ সকল প্রকার নির্যাতন নিপিড়ন বন্ধে সংশ্লীষ্ট প্রশাসনের উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের আশু হস্থক্ষেপ কামনা করছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদিবাসী সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি বিশ্বনাথ সিং, মিতা রানী সিং,তাপস সিং, মিঠুন সিং, বিপুল সিং ও বাসদের আহবায়ক কিবরিয়া হোসেন প্রমুখ। পরে তারা সম্মিলিত ভাবে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছে।