• আজ ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মিলার-কোম্পানির লুকোচুরি, ঘণ্টায় ঘণ্টায় দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা!

| নিউজ রুম এডিটর ৫:১৩ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ৭, ২০২৪ বাণিজ্য, লিড নিউজ

সংকটের দোহাই দিয়ে চাল বিক্রি করছে না অনেক মিলার ও কোম্পানি। আবার বাড়তি দাম দিলে মিলছে পর্যাপ্ত চাল। এমন লুকোচুরির অভিযোগ করে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঘণ্টায় ঘণ্টায় দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে কোম্পানিগুলো। যদিও কেজিতে দু-এক টাকা বাড়ানোকে স্বাভাবিক বলছেন মিলাররা। এমন অবস্থায় বাজার নিয়ন্ত্রণে আমদানি করে দায় সরকারকেই নেয়ার কথা বলছেন অর্থনীতিবিদরা।

চলতি বছরের শুরুর দিকে হঠাৎ করেই অস্থির হয়ে উঠেছিল চালের বাজার। সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও মন্ত্রণালয় এবং খোদ খাদ্যমন্ত্রী পরিচালিত বাজার অভিযানে কিছুটা স্বাভাবিক হয় চালের বাজার।

তবে রমজানের শুরু থেকে হঠাৎ করে আবারও বাড়তে শুরু করে চালের দাম। এ সময় পরিস্থিতি কিছুটা স্বভাবিক হলেও মার্চের শেষদিকে এসে আবারও অস্থির দেশের চালের বাজার। মুক্ত বাজারের কারিশমায় যেন কুপোকাত ভোক্তাকুল।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে চালের বেচাকেনা কমে গেলেও হাল ধরে আছেন পুরোনো ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, রমজান মাসে কোন বছরই দাম বাড়েনি চালের। তবে সংকটের দোহাই দিয়ে এবার ঘণ্টায় ঘণ্টায় দাম বাড়ানোর ধান্দায় মিলাররা।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মুনিরুল ইসলাম বলেন, দেশে চালের পর্যাপ্ত মজুত আছে। দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। সবই মিলারদের কারসাজি!

তাদের এ কারসাজিতে নির্বাচনের আগেই জানুয়ারিতে ভরা মৌসুমে প্রতি কেজি চালের দাম বাড়ানো হয় ৮-১০ টাকা। এবার মার্চের শেষ থেকে আবারও চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। মিলাররা বলছেন, যা বেড়েছে তা বেশি নয়।

তাদের দাবি, চালের বাজার প্রতিযোগিতামূলক হওয়ায় এখানে সিন্ডিকেট করা সম্ভব না। হয়তো কেজিতে ১-২ টাকা বেড়েছে। এটি অনেক বেশি নয়।

ব্যবসায়ীদের কথায় জানা যায়, এক শ্রেণির ব্যবসায়ী চালের দাম নিয়ে কারসাজি করছে; অন্যদিকে অর্থ সংকটে সরকার আমদানি না করে আরেক শ্রেণির ব্যবসায়ীদের চাল আমদানির সুযোগ করে দিচ্ছে।

এতে বাজার কতটা স্বাভাবিক থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে জনমনে। আর অবস্থার বিপরীতে সরকারকেই আমদানি করার পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা। অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ আবু ইউসুফ বলেন, চালের বাজার প্রতিযোগিতামূলক; কাজেই শুধুমাত্র সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানো সম্ভব না। বাজার নিয়ন্ত্রণে চাল আমদানি পুরোপুরি বেসরকারি খাতে ছেড়ে না দিয়ে সরকারকেই আমদানি করতে হবে।

এদিকে, বাজারের গোপন তথ্য পেয়েছে সময় সংবাদ। ভারত থেকে চাল আমদানির কথা বললেও রফতানিতে ভারতের ২৫ শতাংশ শুল্ক উঠানোর প্রক্রিয়া করেনি সরকার। এতে পেঁয়াজের মতোই দেরিতে আমদানি হতে পারে চাল।

আর মৌসুমের নতুন ধান এবার দেরিতে বাজারে আসার সুযোগকে পুঁজি করে ঈদের পর ১০ থেকে ১৫দিন চালের দাম নিয়ে কারসাজির আশঙ্কায় মিল ও কোম্পানির দিকে আঙুল তুলছেন পাইকাররা।