• আজ ১লা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জিম্বাবুয়ের লড়াই ছাপিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ জয়—ব্যাপারটা প্রত্যাশিতই ছিল। সেই সঙ্গে ব্যাটে-বলের দাপটও দেখতে চেয়েছিল ক্রিকেটপ্রেমীরা। কিন্তু, সেই অর্থে ব্যাটিং-বোলিংয়ে ছাপ রাখতে না পারলেও জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ। সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়ের লড়াই ছাপিয়ে দুই ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ ঘরে তুলেছে বাংলাদেশ।

পাঁচ ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের জয় ৯ রানে। এই জয়ে ৩-০ ব্যবধানে জিতল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। সিরিজের শেষ দুই ম্যাচ গড়াবে ঢাকায়।

চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আজ (৭ মে) আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে পাঁচ উউকেট হারিয়ে ১৬৫ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৫৬ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে।

সাগরিকায় রান তাড়ায় শুরুটা জমাতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। জমাতে দেননি বাংলাদেশের বোলাররা। ১৬ রানে প্রথম উইকেট হারায় সফরকারীরা। আট বলে ৯ রান করে সাইফউদ্দিনের বলে থার্ড ম্যানে মাহমুদউল্লাহর ক্যাচে পরিণত হন জয়লর্ড গাম্বি। দলীয় ২৪ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় দলটি। পাঁচ রান করা ব্রায়ান বেনেটকে ফিরতি ক্যাচে বিদায় করেন তানজিম সাকিব।

জিম্বাবুয়েকে তৃতীয় আঘাতটি দেন সাইফউদ্দিন। সাত রান করা ক্রেইগ আরভিনকে বোল্ড করেন তিনি। ৩৩ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে জিম্বাবুয়ে। আঘাত সামলে ওঠার আগেই হারায় অধিনায়ক সিকান্দার রাজাকে। মাত্র এক রান করে রিশাদ হোসেনের স্পিনে বিভ্রান্ত হওয়া রাজার ক্যাচ লুফে নেন উইকেটের পেছনে থাকা জাকের।।

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে জিম্বাবুয়ে। তবু, একপ্রান্তে চেষ্টা চালিয়ে যান তাদিওয়ানাসে মারুমানি। ২৬ বলে ৩১ রান আসে তার ব্যাট থেকে। মারুমানির প্রতিরোধ ভাঙেন মাহমুদউল্লাহ। বাউন্ডারি লাইনে দারুণ এক ক্যাচ ধরেন সাইফউদ্দিন। মারুমানি ফেরার পর ক্রিজে এসে মারমুখী ভঙ্গিতে খেলতে থাকেন জনাথন ক্যাম্পবেল। ১০ বলে ২১ রান করে ঝড়ের আভাস দিলেও তাকে থামিয়ে দেন তানভীর ইসলাম। ডিপ মিড উইকেট তার ক্যাচ নেন লিটন।

৯১ রানে সপ্তম ব্যাটার সাজঘরে ফিরলে জিম্বাবুয়ের কোনো আশাই বেঁচে থাকে না। তবুও, শেষ দিকে দারুণ লড়াই জমিয়ে তোলে তারা। কিন্তু জয়ের জন্য সেটা যথেষ্ট ছিল না। লড়াই জমিয়েও পরাজয়ের মুখ দেখে সফররতরা। ম্যাচের সঙ্গে হাতছাড়া হয় সিরিজও।

এদিন টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকে মন্থর ছিল বাংলাদেশও। এর মধ্যে দলীয় চতুর্থ ওভারের ওভারে দৃষ্টিকটুভাবে বোল্ড হন লিটন দাস। মুজারবানির হাফ ভলি বলে স্কুপ খেলতে গিয়ে এলোমেলো হয়ে যায় লিটনের স্টাম্প। ১৫ বলে ১২ রান করে ফেরেন ড্রেসিংরুমে।

লিটনের পর তিনে নেমে একই কায়দায় বোল্ড হন শান্ত। পরের ওভারেই রাজার আর্ম বল ডেলিভারিতে লাইন মিস করেন শান্ত। ব্যাট ও প্যাডের ফাঁক বল আঘাত হানে স্টাম্পে। ৬ রানে বিদায় নেন অধিনায়ক।

ওপেনিংয়ে নেমে থিতু হওয়ার আভাস দেওয়া তানজিদ তামিমও স্থায়ী হলেন না। ২১ রানে ক্যাচ তুলে দিয়ে বিদায় নেন তরুণ এই ওপেনার। ৬০ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বিপাকেই পড়ে যায় বাংলাদেশ। সেখান থেকে চতুর্থ উইকেটে জাকের আলির সঙ্গে জুটি গড়েন তাওহিদ হৃদয়। এই জুটিতে রানের গতি বাড়ায় বাংলাদেশ। দুজনেই থিতু হয়ে পরে খেলেন হাত খুলে। দুই তরুণের ব্যাটে মিডল অর্ডারে আশা দেখে বাংলাদেশ। জমে ওঠা এই জুটি ১৯তম ওভারে ভাঙে জিম্বাবুয়ে।

হাফসেঞ্চুরি ছোঁয়া তাওহিদকে বিদায় করেন মুজারবানি। তাকেও বোল্ড করে মাঠছাড়া করেন। বিদায় নেওয়ার আগে ৩৮ বলে ৫৭ রান করেন তাওহিদ। যাতে ছিল তিন বাউন্ডারি ও দুটি ছক্কা। সেই সঙ্গে ভাঙে ৮৭ রানের জুটি।

তাওহিদ ফেরার পড় জাকেরও হন মুজারবানির শিকার। একই কায়দায় বোল্ড করে বিদায় করেন জাকেরকে। ফেরার আগে তিনি খেলেন ৩৪ বলে ৪৪ রানের ইনিংস।

দ্রুত জোড়া উইকেট হারানোর পর মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে শেষ দিকে বাংলাদেশকে দেড়শ ছাড়ানো সংগ্রহ এনে দেন রিশাদ হাসান। শেষ দিকে নেমে মাহমুদউল্লাহ করেন ৯ রান আর রিশাদ করেন ৬।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ : ২০ ওভারে ১৬৫/৫ (লিটন ১২, তামিম ২১, শান্ত ৬, হৃদয় ৫৭, জাকের ৪৪, মাহমুদউল্লাহ ৯*, রিশাদ ৬* ; আকরাম ৪-০-৪৪-১ , মুজারাবানি ৪-০-১৪-৩ , রাজা ৪-০-৩৮-১, মাসাকাদজা ৪-০-৩৪-০, জংউই ৪-০-৩৩-০)।

জিম্বাবুয়ে : ২০ ওভারে ১৫৬/৯ (জয়লর্ড ৯, মারুমানি ৩১, বেনেট ৫, আরভিন ৭, রাজা ১, মাদান্দে ১১, ক্যাম্পবেল ২১, জংউই ২, মাসাকাদজা ১৩, ফারাজ ৩৪* , মুজারাবানি ৯* ; তানভীর ৪-০-২৬-১, তাসকিন ৪-০-২১-১, সাইফউদ্দিন ৪-০-৪২-৩, সাকিব ৪-০-২৬-১, রিশাদ ৩-০-৩৮-২, মাহমুদউল্লাহ ১-০-১-১)
ফল : ৯ রানে জয়ী বাংলাদেশ।