• আজ ১লা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সিরাজদিখানে এক ওয়ার্ডের তিনটি সড়ক দখল করে নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন!

 

মেহাম্মদ রোমান হাওলাদার : মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে আচরণবিধি লঙ্গণ করে জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচলের তিনটি সড়ক বন্ধ করে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণার ক্যাম্প স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডে ৩ টি ক্যাম্প স্থাপন করে আনারস প্রতীকের প্রার্থীর কর্মী ও সমর্থকরা। অথচ নির্বাচনী আচরণবিধির ১২(৩)ধরায় বলা হয়েছে, মানুষ ও যানবাহন চলাচলে সড়কে,অথবা চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এমন কোন স্থানে নির্বাচনী প্রচার ক্যাম্প করা যাবে না। সেই সাথে ১২ এর (১) ধারায় একটি ইউনিয়নে সর্বচ্চো একটি ক্যাম্প করার কথা বলা হলেও নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্গণ করে জৈনসার ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের চাইনপাড়া গ্রামে সাবেক ইউপি সদস্য আবুসাঈদ মাদবর,মিজান মোল্লা,নূর হোসেন মোল্লারা পৃথকভাবে ৩ টি ক্যাম্প স্থাপন করেছেন। তারা সবাই আনারস প্রতীকের সমর্থক। এছাড়া ভাটিমভোগ গ্রামের মসজিদের সামনের রাস্তা বন্ধ করে নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান,কয়েকদিন আগে সাবেক ইউপি সদস্য আবুসাঈদ মাদবর,মিজান মোল্লা,নূর হোসেন মোল্লারা আব্দুল শেখের বাড়ির পাশের সড়কে একটি,করইতলা সড়কে একটি,আবুসাঈদ মাদবরের বাড়ির দক্ষিণ পাশের চলাচলের সড়কের উপর বাশ ও সামিয়ানার কাপড় দিয়ে নির্বাচনী প্রচার ক্যাম্পটি তৈরি করা হয়েছে । এতে সড়ক ব্যবহারকারী গ্রামের মানুষদের বিরম্বনায় পড়তে হচ্ছে। প্রার্থী আওলাদ হোসেন সংসদ সদস্য সমর্থিত এবং যারা প্রচার ক্যাম্পটি করেছেন তাঁরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ বাঁধা দেয়নি।

তবে প্রচার ক্যাম্পগুলো সরিয়ে নিয়ে সড়ক গুলো চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি স্থানীয়দের। এ ব্যপারে সাবেক ইউপি সদস্য আবু সাঈদ মাতবরকে জিঙ্গেস করা হলে তিনি বলেন, আমি জানতাম না সড়কে উপরে নির্বাচনী ক্যাম্প করা যাবে না, জানলে এই নির্বাচনী ক্যাম্প তৈরি করতাম না।

আনারস প্রতীকের আরেক সমর্থক মিজান মোল্লা বলেন,সড়কে ক্যাম্প হলেও মানুষ চলাচল করতে পারে। তবে এটা যে আচরণ বিধি লঙ্ঘন হয় সেটা জানতাম না। এছাড়াও ইউনিয়নটির ভাটিমভোগ গ্রামে মুসলিম পাড়া মসজিদের পাশের সড়কের উপরে আনারস প্রতীকের সমর্থক মো. কাইয়ুম নামে এক ব্যক্তি আরো একটি নির্বাচনী প্রচার ক্যাম্প করেছে। মো. কাইয়ুম বলেন,আমরা রাস্তার উপরে শুধু প্যান্ডেল করেছি,রাস্তা বন্ধ করিনি।তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল আপনারা আচল বিধি লংঘন করছেন কি না।এ সময় তিনি বলেন, আমাদের আনারস প্রতীকের প্রার্থী আওলাদ হোসেন মৃধার সাথে আলাপ করে তারপরে বলতে পারব। এ ব্যপারে আনারস প্রতীকের প্রার্থী আওলাদ হোসেন মৃধার মুঠোফোনে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করে কেটে দেওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায় নি। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে রয়েছেন।

যারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে।

তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে হাবিবা ফারজানা বলেন,আমি এখনই লোকজন পাঠিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। দ্রুত রাস্তা থেকে ক্যামগুলো সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।