
প্রতিবেদক, কিশোর ডি কস্তা : গত ২৭-১১-২০২৫ সন্ধায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর থানার অন্তর্গত কান্দি পাড়ায় মাদকের আধিপত্য বিস্তার কে কেন্দ্র করে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সম্রাট দেলোয়ার হোসেন দিলীপ ও লায়ন শাকিল গ্রুপের মধ্যে মারামারি ও গোলাগুলি হয়। এতে দিলীপ গ্রুপ এর কয়েকজন আহত হয়। পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ১০ টার সময় আবারও দুই গ্রুপ এর মধ্যে গোলাগুলি হয়। ঘটনার তদন্তে জানা যায় দেলোয়ার হোসেন দিলীপ ও সাদ্দাম হোসেন এক সময় এক সাদথে রাজনীতি করতো।পরবর্তী তে নিহত সাদ্দাম হোসেন আলাদা হয়ে রাজনীতি শুরু করেন।তারই ধারাবাহিকতায় এই গোলাগুলি কে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী দিলীপ প্রচন্ড ক্ষিপ্ত রাগান্বিত হয়। সন্ত্রাসী দিলীপ মনে করেছিল সাদ্দাম লায়ন শাকিল গ্রুপের সাথে যোগাযোগ করে ও তাদের সাথে কাজ করে। তাই দিলীপ প্রচন্ড ক্ষিপ্ত হয়ে রাত আনুমানিক ১:৩০ ঘটিকার সময় সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী কয়েকজন কে সাথে নিয়ে ছেমেদ মিয়ার বাড়ি, ৮ নং ওয়ার্ড এ সাদ্দাম হোসেন এর ভাড়া বাসায় গিয়ে সাদ্দামকে বাড়ি থেকে ডেকে বাড়ির বাইরে নিয়ে আসে।
এসময় সাদ্দাম বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন। নিহত সাদ্দাম এর স্ত্রী ও বোন আসামিদের সাদ্দামকে বাড়ির বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় জিজ্ঞেস করলে অভিযুক্ত দিলীপ সাদ্দামের স্ত্রী ও বোনকে জানায় অল্প কিছু সময় পরে সাদ্দাম কে বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু অনেক সময় ধরে সাদ্দাম বাসায় ফিরে না আসলে সাদ্দাম এর স্ত্রী তার শাশুড়িকে জানায় সাদ্দাম এখনো বাসায় ফিরে আসেনি।পরবর্তীতে সাদ্দামের স্ত্রী মোবাইল ফোনে কল দিয়ে ফোন বন্ধ বন্ধ পায়। এর পরিবার সকল সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে দেখা যায় সাদ্দামকে রক্তাক্ত অবস্থায় শংকর সাহার বাড়ির পূর্ব পাশে ফেলে দিয়ে সন্ত্রাসীরা দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে । পরিবারের সদস্যরা দ্রুত সাদ্দামকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে নিয়ে যায়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর আহত সাদ্দামকে মৃত ঘোষণা করেন। সন্ত্রাসীরা সাদ্দামের বাম বুকে গুলি করে ঘাড়ে ও গলায় জবাই করে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে। ঘটনা জেনে পরবর্তীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে লাশ এর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে পোস্ট মর্টেম এর জন্য মর্গে প্রেরণ করেন।নিহত সাদ্দামের ৭ বছর ও ১১ মাস বয়সী ২জন কন্যা সন্তান রয়েছে । সাদ্দাম নিহতের ঘটনা জানার পরে এলাকাবাসী হাসপাতাল থেকে লাশ নিয়ে সদর থানার সামনে বিক্ষোভ করেন ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের কে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানায়।ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আজহারুল ইসলাম নিহতের পরিবার কে একটি অভিযোগ দায়ের করতে বলেন ও দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করার৷ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। পরবর্তীতে নিহত সাদ্দাম হোসেন এর মা ৩০২/৩৪ ধারায় প্যানাল কোডে ৬ জন এর নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত কয়েকজন কে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৭৫। মামলায় আসামি করা হয়েছে
১/দেলোয়ার হোসেন দিলীপ ৪৯ পিতা,মৃত,রফিকুল ইসলাম ( নেপাল)
২/বাবুল মিয়া ২৮ পিতা,মোহাম্মদ হান্নান মিয়া, সাদিল মিয়া ৩৫, পিতা,মোহাম্মদ হান্নান মিয়া,
৩/ পলাশ মিয়া ৩৫, পিতা মৃত, বুলন মিয়া,
৪//টিটন মিয়া ৩৪, পিতা,জাকির মিয়া,
৫/কাজল মিয়া ৪৫, পিতা,মৃত রফিকুল ইসলাম ( নেপাল)
৬ /বাপ্পা মিয়া ২৪ পিতা,গোলাপ মিয়া,
ও অজ্ঞাত ৫ /৭ জন সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আজহারুল ইসলাম এর নির্দেশ ক্রমে সদর থানার চৌকস পুলিশ অফিসার এসআই মমিনুল (বিপিএম) এর নেতৃত্বে গত ৩০ নভেম্বর ঢাকার সবুজবাগ এলাকা থেকে ১নং আসামি দেলোয়ার হোসেন দিলীপ ও বাবুল মিয়া কে গ্রেফতার করেন। পরবর্তী তে সদর মডেল থানা পুলিশ আসামিদেরকে কোর্টে প্রেরণ করে দুই দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। এতে ভিডিও ফুটেজ দেখে সাদ্দামকে গুলি করা পিস্তল শটগান ও চাপাতি সহ অন্যান্য অস্ত্র উদ্ধার এর জন্য মহামান্য আদালত এর কাছে ১০ দিন এর রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ৫ দিন এর রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আসামীরা বর্তমানে সদর থানার পুলিশ হেফাজতে আছেন।
নিহত সাদ্দাম হোসেন এর পরিবার ও এলাকাবাসী সকল আসামীদের অতি দ্রুত গ্রেফতার করে উপযুক্ত শাস্তি ফাঁসির দাবি দাবি করেন। বাকি আসামিদের গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধার অভিযান প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
খুন হত্যা






















