• আজ ৩রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মঠবাড়িয়া

৬ বছরেও শেষ হয়নি সেতু নির্মাণ: তিন ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ চরমে

| Peoples News ৩:৩৬ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ২, ২০২৫ সারাদেশ

মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি।পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বাইশকুড়া বাজার থেকে তেঁতুলতলা সংযোগ সড়কের ওপর নির্মাণাধীন সেতুটি ছয় বছরেও সম্পন্ন না হওয়ায় তিন ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে। প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিশেষত টিকিকাটা, দাউদখালী ও হলতা গুলিশাখালী ইউনিয়নের বাসিন্দাদের জন্য এটি এখন দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে রূপ নিয়েছে।

সেতু নির্মাণ শুরু হলেও কাজ আর এগোয়নি।

উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে ৩৭ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণে ৩ কোটি ৬১ লাখ ৬১ হাজার ৫৮৬ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) অর্থায়নে কাজটির দায়িত্ব পায় টিএন অ্যান্ড এএসআই লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
চুক্তি অনুযায়ী ২০২০ সালে কাজ শুরু হয়ে ২০২১ সালের ডিসেম্বরেই সেতুটি ব্যবহারের উপযোগী হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে আরও তিন বছর অতিবাহিত হলেও কাজের কোনো অগ্রগতি হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গত তিন বছর ধরে কাজ বন্ধ রেখেছে।

অর্ধসমাপ্ত পিলার, নেই ঠিকাদারের কোনো মালপত্র।

সরেজমিনে দেখা যায়, খালের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে কেবল কয়েকটি পিলার। সেতু নির্মাণের জন্য কোনো সরঞ্জাম বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি নেই। পাশে যাতায়াতের জন্য যে অস্থায়ী বিকল্প সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল, সেটিও এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কোনো রকমে ব্যবহার করলেও যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ঝুঁকিতে শিশু-বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষ।

১৬৪ নং উত্তর ভেচকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামান বাদল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“৬ বছর ধরে ব্রিজটি এভাবে পড়ে আছে। প্রতিদিন ছোট ছোট বাচ্চারা ঝুঁকি নিয়ে এখানে পারাপার হয়। অনেক বৃদ্ধ পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন। মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। দ্রুত সেতুটির কাজ সম্পন্ন করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।”

বাইশকুড়ার অটোরিকশা চালক ইউসুফ আলী জানান,
“আমরা চাইলেও দূরে ভাড়া নিতে পারি না। মানুষকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। এতে যাত্রীও কমে যায়, আমাদের আয়ও কমে গেছে।”

এলজিইডির বক্তব্য: জায়গার জটিলতায় কাজ বিলম্ব, চলছে রিটেন্ডার প্রক্রিয়া

এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. জিয়ারুল ইসলাম জানান,
“৩৭ মিটার ব্রিজটির কাজ ২০২০ সালে শুরু হয়। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও জায়গা সংক্রান্ত জটিলতা ও বামনা রোডের দিকের অ্যাপ্রোচে সমস্যা থাকায় কাজ শুরুতে বিলম্ব হয়। ঠিকাদার সম্পূর্ণ বিলও পায়নি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই প্রকল্পটি রিটেন্ডারের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।”

স্থানীয়দের দাবি—দ্রুত সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হোক

সেতু নির্মাণ বন্ধ থাকায় তিন ইউনিয়নের মানুষ প্রতিদিনই বিকল্প ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয়রা বলছেন,
“এটি কেবল একটি সেতু নয়, হাজারো মানুষের জীবনরেখা। দ্রুত কাজ শুরু না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটির কাজ দ্রুত পুনরায় শুরু এবং প্রকল্পটি সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

পি নিউজ