• আজ ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

কিশোর গ্যাংয়ের মারধর থেকে বাঁচতে আত্মহত্যা

| নিউজ রুম এডিটর ৭:৩১ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ২৪, ২০২১ সারাদেশ

ফেসবুকের নিজ স্টোরিতে ‘ফার্স্ট টাইম মেশিন চালাইলাম’ লেখা ভিডিও আপলোড করে আলোচিত সেই কিশোর তানভীর (১৭) এবার কিশোর গ্যাংয়ের মারধর থকে বাঁচতে আত্মহত্যার পথ বেছে নিল।

মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) বিকালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার দাপা কবরস্থান সড়কের কুদ্দুস মিয়ার বাড়ির ভাড়া বাসায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে তানভীর। সে জামালপুর জেলার মেলান্দহ থানার টঙ্গীবাড়ীর নজরুল ইসলামের ছেলে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে নিয়ে আসার সময় উত্তেজিত জনতা মমিন নামে এক সন্ত্রাসীকে গণপিটুনি দেয়।

এসময় পুলিশ মারমুখী জনতার হাত থেকে মমিনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
আত্মহত্যার শিকার তানভীরের মা পারভীন জানান, গতকাল বেলা দেড়টার দিকে কিশোর গ্যাং মিল্লাত বাহিনীর সদস্য কামরুল, জনু, সজীব, জামাই শাকিল, রাসেল, লিমন, মমিনসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী তার ছেলেকে রাস্তা থেকে তুলে চন্দ্রাবাড়ীর ভিতরে নিয়ে গিয়ে মারধর করে। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা তানভীরকে ছেড়ে দেয়। পরে বাসায় ফিরে এলে সন্ত্রাসীরা তানভীরকে ফোন করে জানায়, তাকে রাস্তায় পেলে আবারও পিটুনি দেওয়া হবে।

এ ঘটনা তানভীর তার মাকে জাানিয়ে নিজ ঘরে প্রবেশ করে। এই ভয়ে পরিবারের সদস্যদের অলক্ষ্যে তানভীর নিজ ঘরে প্রবেশ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।
তানভীরের বাবা চা দোকানি নজরুল জানান, তানভীর তার সঙ্গে চায়ের দোকানে বসত। একসময় নিহত তানভীর অভিযুক্তদের সঙ্গে চলাফেরা করত।

কিন্তু কয়েক মাস আগে একটি অস্ত্র চালানোর গেমসের ভিডিও আপলোড করে নিজ ফেসবুকে ‘ফার্স্ট টাইম মেশিন চালালাম’ লিখে পোস্ট করায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এর পর থেকে তানভীর তার সঙ্গেই চায়ের দোকানে বসত। গতকাল দুপুরে তাকে তার স্ত্রী ফোন করে জানান, তানভীরের একসময়ের সহযোগীরা তাকে মারধর করেছে এবং আবারও মারধর করবে। এ ভয়ে তানভীর আত্মহত্যা করেছে।
ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহাদাত হোসেন জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন পিপলস নিউজ‘এ । আজই পাঠিয়ে দিন feature.peoples@gmail.com মেইলে