• আজ ৩০শে চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

রাজারহাটে সাংবাদিকের পরিবারকে স্বাধীনতা বিরোধী অপবাদ দিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দূর্নীতির তদন্ত প্রভাবিত করার অপচেষ্টা

| নিউজ রুম এডিটর ৭:৩৪ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২২ কুড়িগ্রাম, সারাদেশ

মোঃবুলবুল ইসলাম,কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের প্রতিবেদন ২৫ দিনেও দাখিল করতে পারেনি তদন্ত কমিটি। এদিকে তদন্ত কার্যক্রম প্রভাবিত করতে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপ-প্রচার চালাচ্ছে একটি মহল। সাংবাদিক আসাদ ও তার পরিবারকে স্বাধীনতা বিরোধি আখ্যা দিয়ে নামে-বেনামে ফেসবুকের আইডি থেকে তার ছবিসহ প্রচার করছে মহলটি। এঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিক সমাজসহ সচেতন মানুষ।

জানা গেছে, স্বাধীনতা যুদ্ধের অনেক পরে জন্ম দৈনিক সমকালের রাজারহাট প্রতিনিধি ও রাজারহাট প্রেসক্লাব এর সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের। তার জ্যাঠাতো ভাই কেএম আকরাম হোসেন যুদ্ধকালীন কুড়িগ্রামের উলিপুর দলদলিয়া ও কুলাঘাট এলাকায় কোম্পানী কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। চাচা কেএম মাহফুজার রহমানকে যুদ্ধে পাঠান সাংবাদিক আসাদের পিতা। তিনি কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীর সোনাহাট সাব-সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। আসাদের পিতার সংসারে লালিত-পালিত হওয়া ছোট ভাই মাহফুজার রহমানকে মুক্তিযুদ্ধে পাঠানোর অপরাধে যুদ্ধকালীন স্থানীয় রাজাকার ও পাক-বাহিনীর সদস্যরা সাংবাদিক আসাদের পিতাকে হত্যা চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে রাজারহাট বাজারে তার কাপড়ের দোকান লুটপাট করে অগ্নি-সংযোগ করেছিল। যুদ্ধ চলাকালীন রাজাকার ও পাকবাহিনীর ভয়ে তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে বাড়ি ছাড়া ছিলেন।

সাংবাদিক আসাদ কখনও কোন রাজনৈতিক দলে সম্পৃক্ত ছিলেন না। ২০০৪ সালে স্থানীয় পত্রিকায় কাজ করার সময় নীতিগত কারনে উপজেলা জামায়াতের আমীর তাকে নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রকাশ করায় ওই জামায়াতের আমীরের বিরুদ্ধে আদালতে মানহানির মামলা করেছিলেন। ২০১৮ সালে ওই জামায়াতের আমির এবং উপজেলার একটি ইউনিয়নের বর্তমান নিকাহ রেজিষ্টারের (কাজী) বিরুদ্ধে এক ইউনিয়নেই এক বছরে দুই শতাধিক বাল্য বিয়ে নিয়ে দৈনিক সমকালে প্রতিবেদন করেছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে তার সম্পাদনায় রক্তাক্ত পতাকা ও কাঙ্খিত বাংলা নামের স্মরনীকা বইও প্রকাশ হয়েছিল। অথচ তাকে এবং তার পরিবারকে স্বাধীনতা বিরোধীর অপবাদ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ছবিসহ আপত্তিকর লেখা দিয়ে অপ-প্রচার চালানো হচ্ছে। এতে ক্ষ’’ব্ধ সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মানুষ।
মূলত, ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বদলিতে দালালদের ক্ষতি হয়েছে মর্মে তারা এ পন্থা বেছে নিয়েছে। রাজারহাটের সিনিয়র সাংবাদিক দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি ও রাজারহাট প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ। পাশাপাশি তিনি একটি বেসরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক। তিনি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করেছেন।

এদিকে ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে টেন্ডারের দালালী করা সহ একাধিক মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হচ্ছে সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ২০২১ সালে রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান জুয়েল তার এলাকা চাঁদপুরের তার আত্নীয়ের লাইসেন্স এবং মহাখালি ঢাকার চাচাতো ভাইয়ের একটি লাইসেন্সে ঠিকাদারী কাজ বাগিয়ে নেয়ার চেস্টা করলেও অন্যান্য ঠিকাদার এবং সাংবাদিকরা জেনে ফেলায় তা তিনি করতে পারেননি। এর সাথে স্থানীয় একটি দালালচক্র জড়িত ছিল। রাজারহাটের সিনিয়র সাংবাদিক আসাদুজ্জামানের কারণে টেন্ডারটি নিজের লোককে দিতে পারেনি ওই কর্মকর্তা। এতে দালালদের পকেটে টান পড়েছে। একারনে ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সহ পিছনে থাকা দালালরা আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় উঠে পড়ে লেগেছেন সাংবাদিক আসাদুজ্জামান আসাদের বিরুদ্ধে।

সাংবাদিক আসাদ জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তার দুর্নীতির রিপোর্টটি না করার জন্য তার অফিসের অবসর প্রাপ্ত কর্মচারীসহ অনেককে দিয়ে ফোন করিয়েছিলেন ডা. আসাদুজ্জামান জুয়েল। এমনকি তাকে মোটা অংকে অর্থ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়েও কাজ হয়নি। শেষে উক্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তাও তাকে ফোন করেছিলেন কিন্তু তিনি তা রিসিভ করেননি। যার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। অথচ হাস্যকর কিছু অভিযোগ তোলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

রাজারহাটের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সাংবাদিক আসাদ এর লেখা প্রতিবেদন বিভিন্ন সময় সমকালে প্রকাশিত হয়ে আসলেও তার বিরুদ্ধে উন্নয়ন কার্যক্রম বাঁধাগ্রস্থ ও ভূল তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রচার করারও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

সাংবাদিক আসাদ এর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উপজেলার বোতলারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে নিম্ন মানের সামগ্রী দিয়ে প্রাচীর নিমাণের কাজ করার সময় উপজেলা প্রশাসন বাঁধা প্রদান এবং সেসব নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে নেয়ারও একটি ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করা হয়েছে কিছু ফেসবুক আইডিতে। এমনকি এই কাজটি অন্য এক সিনিয়র সাংবাদিকের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নামে থাকলেও সাংবাদিক আসাদের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে। সাংবাদিক আসাদ এর লাইসেন্সে মৎস্য পোনা পোনা সরবরাহে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার তথটিও সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম।

২০০৪সনে তৎকালিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এম আই ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রয়াত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সাংবাদিক আসাদ স্থানীয় দৈনিক কুড়িগ্রাম খবরে দুর্নীতির সিরিজ রিপোর্ট প্রকাশ করায় ৩৮দিনে ৯টি রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার পর প্রয়াত ওই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আদালতে সাংবাদিক আসাদ বিরুদ্ধে ছিনতাই-চাঁদাবাজীর মামলা করেছিলেন। আদালত স্বাক্ষ্য প্রমাণে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণ হওয়ায় তাকে বেখসুর খালাস দিয়েছিলেন বিজ্ঞ বিচারক। অথচ তাকে সেই সময় গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে প্রচার করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান জুয়েল তার অফিসের হিসাব শাখার কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে অন্যের স্বাক্ষরে ভূয়া ভাউচারে বিভিন্ন খাতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার বিল উত্তোলন ও আত্নসাতের ঘটনা নিয়ে দৈনিক সমকাল, কালেরকন্ঠ, খোলা কাগজ, যায়যায় দিন, আমার সংবাদসহ বিভিন্ন পত্রিকা এবং চ্যানেল-২৪ সংবাদ সম্প্রচার হলে কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ড.মঞ্জুর এ-মোর্শেদ তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটি বিষয়টি এখনও তদন্ত করছেন।

তদন্ত কমিটি বিষয়টি এখনও তদন্ত করছেন। এর মাঝে অভিযুক্ত রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা.আসাদুজ্জামান জুয়েলকে চাঁদপুরের উত্তর মতলবে বদলী করা হয়।বীর মুক্তিযোদ্ধা কে, এম মাহফুজার রহমান তার বড়ভাই মৃত-শাহাবাদ হোসেনকে নিয়ে ফেসবুকে মিথ্যা অপ-প্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ভাইয়ের সংসারে থেকে আমি বড় হয়েছি। আমাকে মুক্তিযুদ্ধে পাঠানোর জন্য তার দোকান লুটপাট করে অগ্নি-সংযোগ করা হয়েছিল। তিনি ছাড়াও তার আরও তিন ভাতিজা বীর মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন বলে জানান। তিনি ১৯৮০সনে রাজারহাট থেকে লালমনির হাটের তিস্তায় এসে বাড়ি করেন বলে জানান।

রাজারহাট উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা বিঞ্চুপদ রায় বলেন, সাংবাদিক আসাদের পরিবারে একাধিক মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে। যুদ্ধের সময় পরিবারটি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখন হয়েছিল। এ পরিবারকে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের বলাটা দু:খজনক।

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মঞ্জুর-এ মোর্শেদ বলেন, ২৬ফেব্রুয়ারী ভেকসিন কার্যক্রম নিয়ে সবাই ব্যস্ত থাকায় তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি, তবে যে কোন সময় হাতে পাবেন বলে জানান।